১৪ দলের জনসভায় বোমা হামলা, আহত ২৫

জয়পুরহাটে ১৪ দলের জনসভায় বোমা হামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে।

রোববার বিকেলে জেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১৫জনকে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করার পর আশংকাজনক অবস্থায় পাঁচজনকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বোমা হামলার পর বিএনপি জেলা কার্যালয়সহ দুটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলার ঘটনায় শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জেলা বিএনপির কার্যালয় এবং স্টেশন রোডে বিএনপির অপর গ্রুপের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার পূর্বনির্ধারিত গনমিছিল শেষে জয়পুরহাট শহরে রেলগেট এলাকায় মুক্ত মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম দুদুর সভাপতিত্বে ১৪ দলের বিশাল জনসভা চলছিল।

বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের বক্তৃতার সময়ে প¦ার্শবর্তী সড়ক এবং বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে দুটি বোমা সভাস্থলে নিক্ষেপ করা হয়। এতে আহত হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেবেকা সুলতনাসহ (৫৫) ২৫ জন।

আহতদের মধ্যে আরো রয়েছেন- ফিরোজা বেগম (৪০), নাজমা বেগম (৪০), সালমা বেগম (৪৫), হামিদুল ইসলাম (৫২), বাবুল হোসেন (৪০), মুজিবুর রহমান (৭৫), ডাক্তার ফরিদ হোসেন (৬২), শাহাদৎ হোসেন (২২), মোছাদ্দুল হোসেন (৪৫), মজনু সরদার (২৫), তফিজ উদ্দিন (৫০), আসমা বেগম (৫০), মতিন সিং (৭০), মিঠু কর্মকার (৩০)। এরা সবাই আওয়ামী লীগের কর্মী।

এদের মধ্যে বাবুল হোসেন, ডাক্তার ফরিদ হোসেন, মোসাদ্দুল হোসেন, তফিজ উদ্দিন এবং আসমা বেগমকে আশংকাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ ও মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমানসহ ১০জন স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

হামলার কিছুক্ষণ পর সেখানে আবার আবার সভা শুরু হয়। সভা মঞ্চ থেকে অভিযোগ করা হয়, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে হামলার পর জনসভায় বিএনপির বেদারুল ইসলাম বেদিনের নেতৃত্বে প্রায় পাঁচ হাজার বিএনপি কর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

১৪ দলের জনসভায় বোমা হামলার প্রতিবাদে সেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ ক্ষেতলাল ও পাঁচবিবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিএনপির অফিস ভাংচুরের চেষ্টা করলে পুলিশের বাঁধার মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।