হাই কোর্টের এক বেঞ্চে ‘অনাস্থা’ জানিয়েছেন খালেদা

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা বাতিলে আবেদনে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চে ‘অনাস্থা’ জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।
বুধবার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল।
ওই আবেদনের অনুলিপি রাষ্ট্রপক্ষও পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল গৌতম কুমার রায়।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসান ওই বেঞ্চে রয়েছেন।
এর আগে গত ৩ ও ৫ মার্চ এই আদালতে খালেদার বাতিল আবেদনের রুলের চূড়ান্ত শুনানি হয়। ৫ মার্চ শুনানির পর আদালত জানায়, ১০ মার্চ রায় দেওয়া হবে।
এরমধ্যে ৮ মার্চ খালেদার পক্ষে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে গিয়ে শুনানির সুযোগ চাইলে আদালত রায়ের দিন পিছিয়ে এর মধ্যে শুনানি করতে বলে। এর মধ্যেই মামলাটি অন্য আদালতে নিতে এই আবেদন করলেন খালেদা।
বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, “আমাদের মক্কেলের কাছে মনে হয়েছে, ওই আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাব না। অন্য কোর্টে শুনানির জন্য আমরা একটি আবেদন এভিডেভিট করে রাষ্ট্রপক্ষকে অনুলিপি দিয়েছি।”
গৌতম কুমার বলেন, “তারা আমাদের কোর্ট থেকে মামলা নিয়ে যেতে আবেদন করেছে।”
স্থগিতাদেশের কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকা এ মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন সচলের উদ্যোগ নিলে হাই কোর্টের দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়।
রুল শুনানিতে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, “এ মামলায় অপরাধের যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তাই এ পর্যায়ে মামলাটি বাতিল করা ঠিক হবে না।”
সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ১০ মন্ত্রীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবাধয়ক সরকারের সময় এই মামলা করা হয়।
২০০৮ সালের ২৬ ফেব্র“য়ারি শাহবাগ থানায় মামলা হওয়ার পর ৫ অক্টোবর ১৬ জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
এতে বলা হয়, চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অফ চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করার মধ্য দিয়ে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি করেছেন।
২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর খালেদার বিরুদ্ধে এ মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে হাই কোর্ট। মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও দেওয়া হয়।
হাই কোর্টের ওই আদেশ আপিলেও তা বহাল থাকে। ফলে আটকে যায় খনি দুর্নীতি মামলা।
২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি এ মামলা থেকে স্থায়ী জামিন পান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
খুরশীদ আলম খান জানান, এ মামলা বাতিলে অপর দুই আসামি জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজাম ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ দুটি আবেদন করেছিলেন, যা আগেই খারিজ হয়ে গেছে।
জরুরি অবস্থার সময়ে খালেদার বিরুদ্ধে দায়ের করা গ্যাটকো ও নাইকো দুর্নীতি মামলাও সম্প্রতি সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে দুদক।