সোহাগপুরে বিধবাদের নিরাপত্তায় পুলিশ ক্যাম্প

নালিতাবাড়ির সোহাগপুর বিধবাপল্লীর নিরাপত্তায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল থাকায় প্রতিপক্ষের হুমকিতে বিধবা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ায় প্রশাসন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

শনিবার দুপুরে উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

শেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল, এএসপি) মো. শাহজাহান মিয়া জানান, সোহাগপুরের বিধবা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য বিধবাপল্লী সংলগ্ন কাকরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের কাছে এই অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এ সোহাগপুর গ্রামে গণহত্যার দায়ে আল-বদর কমান্ডার মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল।

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাক্ষী মো. আব্দুল জলিল জানান, আপিলের রায়ে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল থাকার পর বিধবা ও শহীদ পরিবারে স্বস্তি ফিরে এলেও তার পক্ষের সাক্ষী আরশাদ আলী হুমকি দিলে তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

নলিতাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফের নেতৃত্বে ১৫ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১২ জন গ্রাম পুলিশ এবং ১০ জন আনছার সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। ক্যাম্পটি তদারকির দায়িত্ব পালন করবে নালিতাবাড়ী থানা। এ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকবেন এসআই মো. আরিফ।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই সোহাগপুরে একসঙ্গে ১২০ জনকে হত্যার পর ওই গ্রামের বহু নারী অকালে বিধবা হয়েছিলেন। এ কারণে ওই গ্রামটি বিধবাপল্লী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।