সারাদেশে প্রতিরোধ কমিটি করছে আওয়ামী লীগ

বিরোধী জোটের কর্মসূচী ঠেকাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট ঢাকাসহ সারাদেশে পাড়া-মহল্লায় কমিটি গঠন করছে। জোটের নেতারা বলেছেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের লাগাতার অবরোধ কর্মসূচিতে চোরাগোপ্তা বোমা হামলা চালিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, এর বিরুদ্ধেই মাঠপর্যায়ে জনমত গঠনের পাশাপাশি এই কমিটি বোমা হামলাকারিদের পুলিশের কাছে তুলে দেবে।

ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেয়ার পরদিন মঙ্গলবার ১৪-দলের বৈঠকে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের লাগাতার অবরোধে ঢাকায় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় চোরাগোপ্তা বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে।

সেই পরিস্থিতিতে ঢাকার সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাড়া-মহল্লায় কমিটি গঠন করে বোমা তৈরি এবং হামলার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার আহবান জানিয়েছিলেন।

এই আহ্বানের পরদিনই ঢাকায় ১৪-দলীয় জোটের বৈঠকে সারাদেশে পাড়া-মহল্লায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতা এবং মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন, তৃণমুল পর্যায়ে ১৪-দলের নেতা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, ”যারা চোরাগোপ্তা বোমা হামলা চালাচ্ছে, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করছে, এমন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কমিটি জনমত গঠন করবে। প্রয়োজনে এ ধরণের অপরাধের সাথে জড়িতদের পুলিশের কাছে তুলে দেবে।”

অবরোধের সময় ঢাকাসহ সারাদেশে নানা ধরনরে সহিংসতা চলছে।

যদিও ১৪-দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সারাদেশে সন্ত্রাস প্রতিরোধে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের নেতারা এখনও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোন নির্দেশ পাননি।

ঢাকার কলাবাগান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কমিটি গঠনের বিষয়ে তারা শুনেছেন। দল বা জোট থেকে কোন নির্দেশনা এখনও তারা পাননি। তবে তারা স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির কর্মসূচির বিরুদ্ধে জনমত গঠনের কাজ করছেন।

বিরোধীজোটের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বোমাবাজিসহ সন্ত্রাস প্রতিরোধে ক্ষমতাসীন জোটের কমিটি গঠনের উদ্যোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

ঢাকার ভূতেরগলি এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এম এ হান্নান বলেন, এই কমিটি দিয়ে বোমাবাজির নামে যদি কাউকে হয়রানি করা হয়, সেটা হবে দু:খজনক।

আরেকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন মনে করেন, ক্ষমতাসীন জোট কমিটি গঠন করলে সহিংস তৎপরতা আরও বাড়তে পারে।

অনেকে আবার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। মুদি দোকানি আমিনুল ইসলাম বলেন, কমিটির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য ভাল। এটা ভাল উদ্যোগ বলেই তিনি মনে করেন।

তবে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম নিরীহ মানুষের হয়রানি এবং সহিংস তৎপরতা বৃদ্ধির অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।

১৪-দলীয় জোটের নেতারা উল্লেখ করেছেন, পাড়া- মহল্লায় কমিটি গঠনের মাধ্যমে তারা তাদের জোটের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরকেও আরও সক্রিয় করতে চাইছেন। 

বিবিসিবাংলা

You Might Also Like