সর্বোচ্চ বেতন ৮০ হাজার সর্বনিম্ন ৮২০০ টাকা

পে-কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুসংবাদ! শতভাগ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে তাদের জন্য। এ ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে থাকা সরকারি চাকুরেদের বেসিক বেতন হবে ৮০ হাজার টাকা। সর্বশেষ ১৬তম ধাপে বেতন হবে আট হাজার ২০০ টাকা। অতিরিক্ত হিসেবে সিনিয়র সচিবদের বেতনের প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৮ হাজার টাকা। একই সাথে মন্ত্রিপরিষদ ও প্রধানমন্ত্রীর সচিবদের সর্র্বসাকুল্য বেতনের প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত রবিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত অষ্টম পে-কমিশনের এই প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন। পরে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন শেষে আগামী ১ জুলাই (২০১৫) থেকে কার্যকর করা হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থের কোনো সঙ্কট হবে না।

প্রতিবেদন পেশের সময় কমিশন চেয়ারম্যান ফরাসউদ্দিন বলেন, বেতন ও চাকরি কমিশন বেতন গ্রেডের সংখ্যা ২০ থেকে হ্রাস করে ১৬তে নামিয়ে এনেছে। অতীতের বেতন কাঠামো চার বছরের জন্য করা হলেও এই বেতন কাঠামো হবে ছয় বছরের জন্য। বিভাজন সৃষ্টিকারী শ্রেণিকরণ রহিত করা হয়েছে। এখন থেকে গ্রেড বা ক্লাস দিয়ে পরিচয় করা যাবে। উপনিবেশ আমলের শেষ একটি শোষণযন্ত্র ইবি বা ‘এফিসিয়েন্সি বার’ তুলে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অনেক জটিলতা ও মামলা- মোকাদ্দমার উৎস ‘সিলেকশন বি ও টাইম স্কেলের’ বিলুপ্ত ঘটিয়ে মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে ওঠার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে। তা ছাড়া দুইটি গ্রেডে টাকার অঙ্কের পার্থক্য বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্রেড স্কেলের মধ্যে ২০টি স্টেপ থাকবে এবং ১৫ বছরে বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার মতো বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চতুর্থ থেকে ১৬তম গ্রেড বা স্কেলের বেতনে একই হারে অর্থাৎ শতকরা ৫ ভাগ প্রথমবারের মতো চক্রবৃদ্ধি হারে বার্ষিক বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সর্বনি¤œ বেতন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ২০০ টাকা। যা সপ্তম কমিশনের সুপারিশের ৪ হাজার ১০০ টাকা থেকে শতভাগ বেশি। প্রথম গ্রেড বা স্কেলের বেতন ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। যা বর্তমান স্কেলে বেতনের শতভাগ বেশি। ৯ম ও ৮ম গ্রেডকে একীভূত করে ৮ম গ্রেডের বেতন ধরা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। বলা হয়েছেÑ এটা করা হয়েছে যাতে নতুন যারা কাজে যোগদান করবেন, তারা যেন সরকারি কাজে আকৃষ্ট হন। এ সর্বোচ্চ বৃদ্ধি মূলত মেধা আকর্ষণের জন্য করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাথে সাথে একজন কর্মকর্তা ২৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন।

এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন ছয় মাস পর :  পে-কমিশনের প্রস্তাব এমপিওভুক্তদের জন্য ছয় মাস পর বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেন, এতে একটি বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার সুযোগ পাওয়া যায়। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছাত্রছাত্রীদের বেতন-ভাতা বাবদ যে আয় করেন তার একটি অংশ সরকারকে দেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Pay scalফরাসউদ্দিন বলেন, বেতন বৃদ্ধির সুপারিশকালে পরিবারের সংজ্ঞা, বিগত ছয় বছরের পুঞ্জিভূত মূল্যস্ফীতি, চার সদস্যের পরিবর্তে ছয় সদস্যের পরিবারের ভিত্তি, অন্যান্য দেশের বেতনাদির চিত্র এবং ব্যক্তি খাতের সাথে তুলনামূলক সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ বেতনের অনুপাত ধার্য করা হয়েছে ১:৯০৭৬। যা গত কয়েকটি কমিশন একইভাবে রেখেছে। প্রথম গ্রেডে যারা সচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের নীতিনির্ধারণী কাজে, সমন্বয়ের কাজে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ শতকরা ৫ ভাগ হারে অর্থাৎ ৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত বেতন প্রদানের সুপারিশ করছে কমিশন। সিনিয়র সচিবদের বেতন মাসে ৮৮ হাজার টাকা এবং মন্ত্রিপরিষদ ও মুখ্য সচিবদের বেতন মাসে ১ লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন চাকরিতে যোগদানকালে একটি স্থিতি ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে।

২০১২ সালে প্রদত্ত ২০ ভাগ মহার্ঘ্য ভাতা ৮ম বেতন ও চাকরি কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার তারিখে বিলুপ্ত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। ২০১৫-১৬ সালের ১ জুলাই-এ কমিশনের সুপারিশ যতটুকু কার্যকর করা হবে তাতে ব্যয় বৃদ্ধি হবে শতকরা ৬৩ দশমিক ৭ ভাগ। আর রাজস্ব আয়ের ভিত্তিতে খরচ অতি সামান্যই বাড়বে। যেহেতু বাজেট ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে, তাই বাজেট অনুপাতে বেতন-ভাতা, অবসর ভাতা, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান মিলে খরচ শতকরা ১৪ দশমিক ২ ভাগ বাড়বে। যেটা আগের কমিশন ১৫ শতাংশ করেছিল।

পে-কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, যেহেতু সরকারি চাকুরেদের বেতন বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তাই নতুন করে ভাতা সৃষ্টির প্রয়োজন হবে না। বিদ্যমান ভাতা নির্দিষ্ট অঙ্কে অথবা হারের মধ্যে সর্বোচ্চ সীমারেখা বেঁধে দেয়া উচিত বলে কমিশন মনে করে।

প্রেষণ বাতিল করার সুপারিশ : প্রেষণসহ সব রকমের ভাতা বাতিল করা যেতে পারে। পাশাপাশি কমিশন ডেপুটেশন না রাখার সুপারিশ করছে। কমিশন বিশেষ ভাতা সমর্থন করেনি। কয়েকটি ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ভাতার যৌক্তিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বাড়ি ভাড়া ভাতা আরো যৌক্তিক করার তাগিদে তিন ধরনের ক্ষেত্রের পরিবর্তে চার ধরনের করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম বিভাগসহ নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, সাভার ও জেলা শহর এবং অন্যান্য এলাকার ক্ষেত্রে এ প্রস্তাব করা হচ্ছে। এতে সর্বমোট চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। কমিশন একটি বিশেষ বিষয়ের দিকে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। আর তা হলো, গ্রাম পুলিশের স্বল্প বেতনের অর্ধেক আসে সরকারি কোষাগার থেকে। বাকিটা ইউনিয়ন কাউন্সিল দিতে পারে না। যেহেতু সংগৃহীত প্রক্রিয়াকরণ ধান ও চাল ৯ মাস পর নষ্ট হয়ে যায় এবং এখন ওপেন মার্কেট অপারেশনের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে, তাই প্রকিওরমেন্টের চাল অতি সুলভমূল্যে গ্রাম পুলিশ সদস্যের কাছে ইস্যু করা যায় কি-না তা বিবেচনা করা যেতে পারে। ৮ম বেতন ও চাকরি কমিশনের সুপারিশ এমপিওভুক্তদের ক্ষেত্রে ৬ মাস পর কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। যাতে তত দিনে স্কিমটি সম্পর্কে একটি বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা ও মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত স্কুলগুলো তাদের ছাত্রদের বেতনের থেকে যে রাজস্ব আদায় করে তার একটি অংশ সরকারকে দেয়ার প্রস্তাব করছে কমিশন।

তিনি বলেন, কমিশন লোকসানি স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে আলাদা বেতন কাঠামো সমর্থন করে না। যেমন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাত, আর্থিক ও বীমা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকে আলাদা বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে তা কার্যকর করা কমিশন সমর্থন করে। তবে সরকার অনুমোদিত বেতন কাঠামোতে যে কয়টি গ্রেড বা স্কেল থাকবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বেতন কাঠামোতেও সমপরিমাণ গ্রেড থাকতে হবে।

বাড়ি তৈরির জন্য ঋণ :  চেয়ারম্যান বলেন, বেতন-ভাতার বাইরে সরকারি চাকুরেদের বাসস্থান একটি বড় সমস্যা। এ বিষয়ে কমিশন বিভিন্ন বিকল্প সুপারিশ রেখেছে। একটি হলো, রিয়েল এস্টেটদের মাধ্যমে সরকারের পুরনো বাড়িঘর ভেঙে অথবা খাস জমি দিয়ে ৬০/৪০ ভিত্তিতে আবাসনের ব্যবস্থা করা। অপর একটি বিকল্প হলো, ৩০ জন বা ১০ জনের গ্রুপকে ৫ বা ১০ কাঠা জমি গৃহ নির্মাণের জন্য দেয়া। এ ক্ষেত্রে ৫০ মাসের বেতন ব্যাংক রেটে দেয়া যেতে পারে। অন্যথায় সাধারণভাবে জমি কেনার প্রমাণসাপেক্ষে ব্যাংক রেটে ৫০ মাসের মূল বেতন ঋণ হিসেবে দেয়া যেতে পারে। কমিশন মনে করে, এই কার্যক্রম হাতে নিলে ম্রিয়মাণ গৃহায়ন খাতে আশার সঞ্চার হবে। অনুরূপভাবে গাড়ি কেনার ঋণ এক বছর নিরীক্ষামূলকভাবে প্রাধিকারপ্রাপ্তদের বাইরে তৃতীয় গ্রেড ও তার উচ্চতর কর্মকর্তাদের ২৫ লাখ টাকার ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা যেতে পারে। নিরীক্ষা সফল হলে চতুর্থ গ্রেডেও সমপরিমাণ ঋণ দেয়া অব্যাহত রাখা যেতে পারে। তবে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো গাড়ি ঋণ দেয়া হলে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অবশ্যই সংস্থার নিজস্ব আয় থেকে বহন করতে হবে।

বীমার আওতায় সরকারি চাকুরেরা : স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কমপ্রিহেনসিভ বীমার ক্ষেত্রে সরকার প্রতিজন চাকুরের জন্য মাসে ৪০০ টাকা হারে সাধারণ হসপিটাইলাইজেশন, এক্সিডেন্ট এবং ১০০ টাকা লাইফ প্রিমিয়াম দিয়ে পাঁচ বছরের মেয়াদে মোট ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ, হাসপাতালের খরচসহ বীমা দাবি সরাসরি হাসপাতালে পরিশোধিত হতে পারে। কোনো ক্যাশ পেমেন্টের ব্যবস্থা থাকবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজন হবে। এ ব্যবস্থা বীমা খাতেও প্রাণের জোয়ার আনবে বলে কমিশন মনে করে। এ ছাড়া বীমা খাতের উদ্বৃত্ত থেকে ৫০০ শয্যার একটি আধুনিক হৃদরোগ হাসপাতাল সরকারি চাকুরেদের জন্য নির্মাণ করা যেতে পারে। কমিশন মনে করে, বীমা প্রিমিয়াম থেকে যথেষ্ট সঞ্চয় উদ্বৃত্ত হবে। এ খাতে সরকারের খরচ শুধু প্রথম বছরেই হবে। পরে তা অনেকটাই কমে যাবে।

স্বেচ্চায় অবসরের বয়স ২০ করার সুপারিশ : ফরাসউদ্দিন বলেন, পেনশন বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। পেনশনের হার শতকার ৯০ ভাগে উন্নীত করা যায়। এটা আগে ৮০ ভাগ ছিল। তবে আনুতোষিক যেটা ২০১৩ সালের নভেম্বরে ২৬ বছর পর ১ টাকায় ২৩০ টাকা করা হয় তা আর বাড়ানো সঠিক হবে না। এ ছাড়া ছুটি পাওনা সাপেক্ষে পেনশনে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১২ মাসের বদলে ১৮ মাসের বেতন নগদায়ন করা যায় কি-না তা বিবেচনায় নেয়ার জন্য কমিশন সুপারিশ করছে। স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়ার সময় ২০ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এলপিআর ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া যায় কি-না সে বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের একটি বড় সুপারিশ হলো, যে হারে বেতন বাড়বে সে হারেই পেনশন বাড়ানো যায় কি-না তা বিবেচনায় নেয়ার সুপারিশ করছে কমিশন। তবে যারা সম্পূর্ণ বেতনের টাকা পেনশনকালে নিয়ে গেছেন তাদের চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা বাড়ানো ছাড়া আর কোনো সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি।

নন-ক্যাডারদের দাবি-দাওয়া বিবেচনা করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। গুচ্ছিকরণের নিরীক্ষা অনেক চিন্তাভাবনা করেই করতে হবে। যারা এক পদে সারা জীবন কাটিয়ে দেন তাদের জন্য নতুন করে অর্গানোগ্রাম সৃষ্টি করা হবে। সচিবালয় ও সচিবালয়ের বাইরের কর্মচারী যারা একই বেতনে, একই যোগ্যতায় চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ১৯৯৫ সালে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছিল তা দূর করার সুপারিশ করেছে কমিশন। কমিশন চেয়ারম্যান ফরাসউদ্দিন বলেন, ১৯৭৭ সালের আদলে ‘দ্য পে অ্যান্ড অ্যালায়েন্স অর্ডার’ জারির মাধ্যমে কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন করতে পারে। একটি স্থায়ী বেতন ও চাকরি কমিশন অথবা একটি স্থায়ী বেতন কমিশন ও আলাদা চাকরি পুনর্গঠন কমিশন গঠনের সুপারিশ করছি।

পে-কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এই রিপোর্টটি আজকে দেখলাম। এখন এটা আমাদের পড়তে হবে। আমাদের নীতিনির্ধারকদেরও পড়তে হবে। এবং আমরা সচরাচর যেটা করি এ ক্ষেত্রেও তা-ই করা হবে। অর্থাৎ আমরা প্রতিবেদনটি পড়ে একটা ব্রড গাইডলাইন্স দিয়ে একটি ইমপ্লিমেনটেশন কমিটি গঠন করি। আর এটা মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়েই করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের ইচ্ছা হলো, এটা কার্যকর করব ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে। আর আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে। এটুকুই এখন বলতে পারি। এর চেয়ে বেশি কমেন্ট করা কঠিন। তবে মনে হচ্ছে, এটা একটা ভালো রিপোর্ট।

তিনি বলেন, প্রশাসনিক সংস্কার আমার একটা ব্যক্তিগত আগ্রহের বিষয়। সুতরাং এটা যথোপযুক্ত নজর পাবে। আমরা ক্ষমতা নিয়েছি এই দেশটাকে অন্যরকম দেশ গড়ার উদ্দেশ্য নিয়ে। আমাদের এই অর্থনীতিতে প্রশাসনটাও সেরকম গতিশীল, দক্ষ হওয়া দরকার। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, একটা সেটিসফাইড প্রশাসন দরকার।

মন্ত্রী বলেন, আমরা কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে বাজেটে কিছু রেখেছি। তাই এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে এটা বলতে পারি, সরকারের কাছে অর্থ আছে।