সব সমস্যার মূলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ

চেং শিজহং
১৬ ডিসেম্বর এক ভাষণে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভি বলেছেন, ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছে।

ইন্সটিটিউট অব স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ, ইসলামাবাদ আয়োজিত ‘হিন্দুত্ব মনোভাব অনুধাবন ও ভারতের আধিপত্যবাদী আকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারের মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, হিন্দু আদর্শ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ভারত একটি শোষণের সমাজ সৃষ্টি করছে এবং এবং চরমপন্থার গহ্বরে নিপতিত হচ্ছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে প্রেসিডেন্ট আলভি ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর মূল কারণ তুলে ধরেছেন। ফলে দেশটির সঙ্গে প্রতিবেশীদের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতি হচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দক্ষিণ এশিয়ায় অশান্তি ডেকে আনবে।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে একের পর এক সমস্যা তৈরি করে চলেছে ভারত। চীন সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনী বার বার লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) লঙ্ঘন করছে। তারা ইচ্ছা করে চীনা সেনাদের উপর উষ্কানিমূলক হামলা করছে। গত বছর ভারত যে রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে তাতে নেপালের ভূখণ্ড ‘ভারতীয় এলাকা’ হিসেবে দেখানো হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রায়ই কাশ্মীরের লাইন অব কন্ট্রোলে (এলওসি) পাকিস্তানের ওপর তীব্র হামলা চালায়, কোন কারণ ছাড়াই নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। আঞ্চলিক মাতব্বরি করতে গিয়ে ভারত অন্যকে উত্তক্ত করার জন্য অনেক দূর যায়।

অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে জনগণের মনযোগ সরাতে অন্য দেশে সামরিক অভিযান চালানো নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধিন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাধারণ কৌশলে পরিণত হয়েছে। লোকরঞ্জনবাদ ভারতের উন্নয়নের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিজেপি বা অন্য যেকোন দলই হোক না কেন ভারতীয় এলিটদের পক্ষে গণতান্ত্রিক সিস্টেমে লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতির প্রভাব এড়ানো কঠিন। আরো বিপজ্জনক হলো ভারতীয় মিডিয়া লোকরঞ্জনবাদে ভর্তি। তারা প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ রিপোর্ট করে। ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য দেশের প্রতি জনগণের শত্রুতা উষ্কে দেয়। ফলে পরিস্থিতি খারাপের চেয়ে খারাপতর হচ্ছে।

ভারত সবসময় চিত্তাকর্ষক সুপারপাওয়ার হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং পরাশক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়নে মরিয়া। অথচ প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক নেই। ভারত পাকিস্তানকে চির শত্রু মনে করে। আর ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, এমনকি বাংলাদেশকেও নিজের খামারবাড়ি মনে করে। ফলে চীনের সঙ্গে যখন দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের সম্পর্ক উন্নয়ন হয় তখন ভারত মনে করে তাকে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। ভারতে বড়ভাইসুলভ মানসিকতা বড়ই জটিল।

যুক্তরাষ্ট্রের চীন-বিরোধী মনোভাব ভারতকে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক অংশীদার করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবলভাবে চাচ্ছে ভারতকে চীনের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে দাঁড় করাতে। এরই প্রেক্ষাপটে আমেরিকার সমর্থন প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ চালিয়ে যেতে নয়াদিল্লীকে সাহসী করে তুলেছে।

ভারতের দক্ষিণ এশিয়া নীতি মূলত দুই অংশে বিভক্ত: ক্ষুদ্র প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ ও চীনকে প্রতিহত করতে পশ্চিমাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা।

আধিপত্যবাদ কায়েম করতে ভারত প্রক্সিযুদ্ধ শুরু করেছে। এটা হলো প্রতিবেশী দেশগুলোর সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নষ্ট করতে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী সংগঠনগুলোকে কাজে লাগানো। পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ) হলো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে অর্থ যোগানের শীর্ষ দুই প্রতিষ্ঠান। তারা অন্তত ৬০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে সন্ত্রাসীদের। অর্থ যোগান ছাড়াও ভারতীয় গোয়েন্দা সদস্যরা পাকিস্তানে ঢুকে অস্ত্র ও কৌশলগত প্রশিক্ষণও দিচ্ছে অস্ত্রবাজদের। শুধু তাই নয়, এরা পাকিস্তানের বড় ধরনের নির্মাণ প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে।

চেং শিঝোং : সাউথওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অব পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাণ্ড ল’-এর ভিজিটিং প্রফেসর, চারহার ইন্সটিটিউটের সিনিয়র ফেলো, দক্ষিণ এশিয়া দেশগুলোর সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে, এবং চায়না শিল্ড কনসাল্টিং সার্ভিস কো. লিমিটেডের নির্বাহী উপদেষ্টা