‘সংকটের সময় পর্দার আড়ালেও অনেক ঘটনা ঘটে’

বাংলাদেশে যেসব নাশকতামূলক কাজ, সহিংসতা বা হত্যাকাণ্ড হয় সেসবের সুনির্দিষ্ট বিচার হওয়া দরকার। যারা প্রকৃত দোষী তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া দরকার। যারা বাসে আগুন দেয়, মানুষ হত্যা করে তাদের বিচারের ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত থাকার কথা নয়।

রেডিও তেহরানের কথাবার্তা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বিশিষ্ট বাংবাদিক বৈশাখী টিভির প্রধান নির্বাহী এবং প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। তিনি দুঃখের সাথে বলেন, বাংলাদেশে তারকাদের খুব কদর সর্বত্র। আর এটি দেখা যায় পুলিশ বাহিনীর মধ্যেও। গাড়ি পোড়ানো, হত্যা, সহিংসতাসহ এ ধরণের ঘটনায় যখন পুলিশ বাহিনী মামলা করেন তখন তারা প্রকৃত আসামির চেয়ে তারকাদের আগে খোঁজ করেন। আর রাজনৈতিক অঙ্গনের উজ্জ্বল তারকা যারা তাদেরকেই পুলিশ সবার আগে আসামি করেন।

বিশিষ্ট এ সাংবাদিক বলেন,  এটি সব আমলেই ঘটেছে। সাবের হোসেন চৌধুরী, জামাল উদ্দীন আহমেদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজমসহ অনেকের বিরুদ্ধে এমন সব মামলা দেয়া হয়েছিল যা কেউ বিশ্বাস করেনি। এখন আমরা দেখছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর মামলা দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক নেতা  শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধেও গাড়ি পোড়ানোর মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দিয়ে পুলিশ রাজনৈতিক একটি বার্তা দিতে চান। কিন্তু তাতে যে ক্ষতি হয় সেটা হচ্ছে এসব ঘটনায় যারা প্রকৃত দোষী তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে।

তো এই যে একদিকে বিচার না হওয়ার সস্কৃতি তার সঙ্গে রয়েছে সরকারের বিভিন্ন মহলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। ফলে আমি বলতে চাই আমাদের তারকাখচিত মামলাগুলো শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয় না। রাজনৈতিকভাবেই যেমন এসব মামলা দেয়া হয় আবার রাজনৈতিকভাবেই তা হারিয়ে যায়। কিন্তু বাস পুড়তে থাকে, মানুষ মরতে থাকে- মানুষের এই আর্তনাদ কখনই থামে না।

বুলবুল বলেন, বাংলাদেশে আসলে কি হতে যাচ্ছে সে কথা যারা প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতি করেন তারা বলতে পারবেন। তবে আমি মনে করি এরকম সংকটের সময় পর্দার আড়াঁলেও অনেক ঘটনা ঘটে থাকে, সেসব ঘটনা খুব বেশি নেতিবাচক হয় না।

– রেডিও তহরান