শাহজাহান বাবলুর দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

প্রায় সাড়ে ৪০০কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এসবি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান বাবলুর দুর্নীতি অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দেশের দুটি ব্যাংক থেকে মোট ১২০ কোটি টাকা ও বিমান মন্ত্রণালয়ের ৩২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের সুনিদিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রাথমিক সোর্সে এ সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে গত সপ্তাহে কমিশন এ অনুসন্ধানে নেমেছে। অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও পরিচালক মো. নূর আহাম্মদকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার দুদক শীর্ষ নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদক সূত্র জানায়, এসবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বাবলু সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণ ও ভুয়া দলিল বন্ধক রেখে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক থেকে মোট ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া বিমান মন্ত্রণালয়ের ৩২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অন্যান্যদের যোগসাজসে তিনি এসব দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগে উল্ল্যেখ করা হয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে শিগগিরই বিভিন্ন দফতরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করা হবে। নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযোগের সত্যতা জানা যাবে।

সূত্র আরও জানায়, এসবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বাবলুকে এরই মধ্যে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে তলব করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রানওয়ে মেরামতে কোনো কাজ না করেই ১২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের পৃথক অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। কমিশনের উপপরিচালক আবদুছ ছাত্তার সরকার এ অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন।

এ ছাড়া ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. শাহজাহান বাবলুসহ মোট আট জনের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলাও করেছে কমিশন।

কোটি কোটি টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত এই বাবলু ‘জাতীয় মৎস পদক-২০১৪’ স্বর্ণ পদক পেয়েছেন । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তার হাতে এ পদক তুলে দেন।

উল্লেখ্য, ব্যাংকের ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে মো. শাহজাহান বাবলুকে ইতোমধ্যেই তলব করা হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক সেলিনা আখতার এ অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন।