শাহজাদপুরে মেয়রের গুলিতেই সাংবাদিক নিহত: এমপি ও পুলিশ কর্মকর্তার দাবি

শাহজাদপুরের পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরুর গুলিতেই দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসিবুর রহমান।

আজ (শনিবার) বেলা পৌনে ১১টার দিকে শাহজাদপুর পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলের জানাজা পূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ দাবি করেন। হাসিবুর রহমান এমপি বলেন, “পুলিশের বাধা উপেক্ষা মেয়র নিজে এবং তার ভাইয়েরা সাংবাদিকসহ প্রতিপক্ষের ওপর গুলি ছুড়েছে। আর মেয়রের গুলিতেই সাংবাদিক শিমুল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।”

সমাবেশে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত বলেন, “শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ সেখানে যথাসময়ে উপস্থিত হয়েছিল। ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। মেয়রকে বারবার বারণ করার পরও তিনি গুলি ছোড়েন। একাধিক গুলি করেন মেয়র। অন্যকোনো পক্ষ গুলি করেনি।”
তিনি আরো বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, যা আমাদের সামনেই ঘটেছে। অপরাধী যত ক্ষমতাশালীই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনার পর মেয়রের বাড়ি থেকে ৪৩টি শর্টগানের গুলি ও ঘটনাস্থল থেকে ৬টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।”

মেয়র মিরুকে গ্রেফতারের জন্য শুক্রবার রাত থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে জানিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা হবে। বৃহস্পতিবার ঘটনার পর মেয়র মিরু দাবি করেছিলেন- প্রতিপক্ষের গুলির জবাবে তিনি এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন।
এদিকে, শিমুল হত্যার প্রতিবাদে আজ শাহজাদপুরে অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। এছাড়া, সিলেট, সাতক্ষীরা, রংপুর, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা।

উল্লেখ্য, শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে বৃহস্পতিবার মারধর করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ মেয়র মিরুর বাড়ি ঘেরাও করলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল গুলিবিদ্ধ হয়ে শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সাংবাদিক শিমুল হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নূরুন নাহার বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে আসামি হিসেবে মেয়র মীরু, তার ভাই পিন্টুসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া, বৃহস্পতিবার রাতেই পৌর মেয়র হালিমুল হক মীরু, তার ছোট ভাই হাকিমুল হক পিন্টু ও হাবিবুল হক মিন্টুসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় মামলা করেন শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদের চাচা এরশাদ আলী।