শহিদুল খুনের ঘটনায় আ.লীগ নেতারা হয়ে গেলেন অজ্ঞাতনামা!

আওয়ামী লীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম খুনের ঘটনায় দলটির যশোর সদর উপজেলা সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের নামে অভিযোগ দেয়ার দু’দিনেও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। তবে ঝামেলা এড়াতে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে নিহতের স্বজনদের অজান্তেই অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করেছে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিহতের স্বজন ও আওয়ামী লীগের অপর অংশের নেতারা বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

সূত্রমতে, শালতে বাওড় নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে বুধবার ভোরে সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামের আওয়ামীলীগকর্মী মাছ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম খুন হন। এ বাওড় নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, সহ-সভাপতি দাউদ হোসেন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ দ্বন্দ্বের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে নিহতের পরিবার ও পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই এজাজ আহম্মেদ বাদী হয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, সহ-সভাপতি দাউদ হোসেন, সবুজসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য থানায় লিখিত দেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম থাকায় গত দু’দিনেও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। ঝামেলা এড়াতে নিহতের স্বজনদের অজান্তে পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহতের ভাই এজাজ আহম্মদ বাংলামেইলকে বলেন, ‘শুনেছি যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) মামলা রেকর্ড করতে বাধা দিয়েছেন।ওসি ঠিক আছেন।’

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক জানান, সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাদী মামলা করতে সাহস পায়নি। তাই সাঁজিয়ালি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোর্তজা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা করেন।’

নিহতের ভাই এজাজ আহম্মেদের অভিযোগ নেতাদের নাম থাকায় মামলা রেকর্ড করা হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভাই, কেউ যদি এমন কথা বলে, বোঝেন তো; আমার কি করার আছে।’

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রেশমা শারমীন বলেন, ‘নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেয়নি। তাই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।’

কিন্তু নিহতের ভাই এজাজ আহম্মেদের দাবি- আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বিষয়টি জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে পুনরায় নিহতের ভাই এজাজ আহম্মদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা মিথ্যা কথা। পুলিশ আমার লিখিত রিসিভ করে নিয়েছে। সে কপি আমার কাছে রয়েছে।’