লতিফ সিদ্দিকী মুরতাদ, শাস্তি মৃত্যুদণ্ড : আল্লামা শফী

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মুরতাদ ঘোষণা করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ্‌ আহমদ শফী।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন। পবিত্র হজ পালনের জন্য বর্তমান মক্কায় অবস্থান করছে হেফাজত আমির।

লতিফ সিদ্দিকী ইসলামের মৌলিক বিধান পবিত্র হজ, হাজি সাহেবান, মহানবী (সা.) এবং পবিত্র আরববাসী সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও কটাক্ষ করে যে বক্তব্য দিয়েছে তাতে তিনি মর্মাহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন আল্লামা শফী।

মন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আল্লামা শফী বলেন, লতিফ সিদ্দিকী ইসলামী শরীয়ত বিধান অনুযায়ী ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ পবিত্র হজকে কটাক্ষ করায় সে মুরতাদ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, হজ মহান আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। এই বিধানকে ফরজ করে পবিত্র কোরআনে আয়াত নাজিল হয়েছে। আর মহানবী (সা.) আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ট নবী ও রাসূল। সকল নবীদের সরদার।

হেফাজত আমির বলেন, একটি মুসলিম প্রধান দেশের মন্ত্রী হয়ে মহানবী (সা.), হজ, তাবলিগ জামায়াত ও আরববাসীদের নিয়ে কটূক্তি করে চারটি মৌলিক অপরাধ করে ইসলাম ধর্ম থেকে খারিজ হয়ে গেছে লতিফ সিদ্দিকী। সে মুরতাদ। ইসলামে মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

অবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো মুরতাদ ধর্মদ্রোহী তৌহিদী জনতা বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারবে না। তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করতে হবে।’

আল্লামা শফী বলেন, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, এবং সংসদ সদস্যরাও হজ পালন করেন। হাজিদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য কোনো বিধর্মীরাও করেনি। লতিফ সিদ্দিকী মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাত করেছে। তাকে ক্ষমা করা যায় না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে হারে নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহীদের আস্ফালন শুরু হয়েছে তাতে মনে হয় দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। হেফাজতে ইসলাম যে ১৩ দফা দাবি পেশ করেছিল, তা যদি সরকার বাস্তবায়ন করতো লতিফ সিদ্দীকি এতবড় দৃষ্টতা দেখানোর সাহস পেত না।

হেফাজত আমির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমরা অনেক ধৈর্য্য ধারণ করেছি। মুসলমানদের ধৈর্য্যের সীমা শেষ হয়ে গেছে। আমাদেরকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। মহানবী (সা.) ও ধর্মঅবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে আইন পাশ কর্বন। জনগণ ক্ষোভে ফুঁসে উঠলে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে তাকে সালমান রুশদী ও তাসলিমা নাসরিনের পরিণতি ভোগ করতে হবে। আল্লাহর জমিন বাংলাদেশের মাটিতে তাকে চলতে দেয়া হবে না।’