রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা, সংঘর্ষে আহত ১৫

রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজ উদ্বোধনের দিনে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ সমর্থকদের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।

আজ শনিবার সকালে শহরের হ্যাপীর মোড় থেকে পায়ে হেঁটে রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী। তারা রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে সেখানে অবস্থান নেওয়া পিসিপিকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের ধাওয়া খেয়ে হ্যাপীর মোড়ে ফিরে এসে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মেডিক্যাল কলেজ সমর্থক অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে পিসিপিকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় পিসিপিকর্মীরা ইসলামী ব্যাংক, হ্যাপীর মোড় মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পাল্টা জবাব হিসেবে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরাও শেভরন ক্লিনিক, টেলিটক কাস্টমার কেয়ার ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে এসএ টিভির সাংবাদিক মো. সোলায়মা, আরটিভির ইয়াছিন রানা এবং ইনডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার আনোয়ার হোসেন আহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।

রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাত এড়াতে আমরা নির্ধারিত মিছিল বাতিল করেছি। কিছু নেতা-কর্মী দল বেঁধে মেডিক্যাল কলেজ যাচ্ছিলাম। কিন্তু বিনা উসকানিতেই আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে পিসিপি। সম্পূর্ণ বিনা কারণেই ব্যাংক, অফিস এবং দোকানপাট ভাঙচুর করেছে তারা- এটা অনাকাঙ্ক্ষিত।

পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রিন্টু চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, আমরা শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালন করছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগ ও বাঙালি ছাত্র পরিষদ বিনা উসকানিতে আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আমরা প্রতিরোধ করেছি মাত্র। তাদের চারজন কর্মী আহত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ‌এ সময় কোনোপ্রকার হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।