মোড়েলগঞ্জে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি হলেন দিন মুজর স্বামী আলামীন শেখ ওলফে আলম সাধু (৫৫)। ঘটনার তিন মাস পর ঘাতক স্ত্রী ফাতেমার দেখিয়ে দেযা স্থান থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করল পুলিশ।

দুই কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জন্মদাতা আলামীন শেখ মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরন ইউনিয়নের কুমারীয়াজেলা গ্রামের বাসিন্ধা।

বুধবার রাতে ঘাতক স্ত্রী ফাতেমা বেগমের স্বীকারোক্তি মতে বাসগৃহের পাশে কাচা গোসল খানার নিচে মাটি চাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। আলামত হিসেবে জব্ধ করা হয় হত্যা কান্ডে ব্যবহার করা গুপ্তি ও আলামিনের পরিদেহ রক্তমাখা ছেড়ে লুঙ্গি।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, পেশায় দিন মুজুর আলামিন শেখ ওরফে আলম সাধু বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করত। ফলে ১০/১৫ দিন পর পর সে দূরবর্তীস্থান থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরতো।

আলামিন ঢাকায় ১৫ দিন অবস্থান করার পর দিনমুজুরের কাজ শেরে ১৬ মার্চ গ্রামের বাড়ি পৌছায়। ওই দিন রাতেই আলামিন শেখকে তার স্ত্রী ৪ সন্তানের জননী ফাতেমা বেগম নিজ হাতে ধারালো গুপ্তি দিয়ে হত্যা করে। লাশ গোসল খানার নিচে গর্ত খুড়ে পুতে রাখে।

জানা গেছে, স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিবেশি মুজিবর রহমানের ছেলে রফিকুল ফরাজির সাথে ফাতেমার পরকীয়া সর্ম্পক গড়ে ওঠে। আর সে কারনেই আলামিনকে হত্যা করে লাশ ঘরের পাশে কাচা গোসলখানার নিচে গর্ত খুড়ে মাটি চাপা দেয়। খুনের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুপ্তি ধুয়ে ফেলাসহ আলামীনের গায়ের রক্তমাখা গেঞ্জিও ধ্বংস করে খুনি ফাতেমা।

বুধবার মোড়েলগঞ্জ থানায় ফাতেমার গর্ভজাত ছেলে মেয়ের সন্দেহের ভিত্তিতে থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই তারক বিশ্বাস ও মহিলা পুলিশ সদস্যের জেরার এক পর্যায়ে তিন মাস আগে কিভাবে তার স্বামী হত্যা করেছে তা প্রকাশ করে ফাতেমা। নিজেই দেখিয়ে দেয় স্বামীর লাশ কোথায় রেখেছে। বুধবার রাতে ফাতেমার দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকেই পুলিশ উদ্ধার করে তিস মাস আগে খুন হওয়া দিন মুজুরের আলামিনের গলিত লাশ। জব্ধ করা হয়ে ঘর থেকেই হত্যাকাঞ্জে ব্যবহার করা ধারালো গুপ্তি ও আলামিনের পরিদেহ ছেড়া লুঙ্গি।

মোড়েলগজ্ঞ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দিন মুজুর আলামিন শেখ গত ১৬ মার্চ বাড়িতে আসে। ওই রাতেই সে তার স্ত্রীর হাতে খুন হয়। এ অবস্থায় ঘটনার ১৫ দিন পর আলামিনের ভগ্নিপতি মোশারেফ হোসেন খোজ নিতে আলামিনের স্ত্রী ফাতেমার কাছে ফোন করে। তখন ফাতেমা ভগ্নিপতি মোশারেফকে জানায় আলামিন দূরে কোথাও যাবে তার ফোন কয়েক দিন বন্দ থাকবে বলে বাড়িতে বলে গেছে আলামিন।

বিষয়টি আলামিনের বড় ছেলে চট্রগ্রামে ফার্নিচার তৈরী কাজে কর্মরত মোহাম্মদ আলীকে জানানো হয়। ১৫ দিন ধরে তার বাবার খোজ পাওয়া যাচ্ছে না বিষয়টি মোহাম্মদ তাদের অপর বিবাহিত দুই ছোট বোন রহিমা ও হওয়া এবং বাড়িতে থাকা ৭ বছরের ছোট ভাই সেফাতুল্লাহকে অবহিত করে। একপর্যায়ে মোহাম্মদ আলী ঢাকায় গিয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় ২ এপ্রিল তার পিতা আলামিন শেখ নিখোঁজ রয়েছে এমন লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এভাবে পেরিয়ে যায় বেশ কিছু দিন।

একসময়ে মা ফাতেমার কর্মকাণ্ডের ফলে সন্তান মোহাম্মদ আলীসহ অন্যদের সন্দেহ বাড়তে থাকে । ১৬ জুন বুধবার এ অবস্থায় দুপুরের দিকে মোহাম্মদ আলীসহ অন্যরা মোড়েলগঞ্জ থানায় গিয়ে তার বাবা আলামিন শেখ নিখোঁজের বিষয়টি অবহিত করে কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগ পত্র ওসির কাছে দেয়। পরে মোড়েলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত ) তারক বিশ্বাস ও মহিলা পুলিশ সদস্যরা সব কিছু শুনে আলামিনের বাড়িতে আসে। একপর্যায়ে ফাতেমাকে জেরা শুরু করলে সে অপকটে তার স্বামীকে ধারালো গুপ্তি দিয়ে হত্যার পর লাশ পুতে রাখার কথা স্বীকার করে স্ববিস্তার বর্ণনা দেয়।