বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকিং!

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসএ) মাইক্রসফ্টের সফটওয়্যার ব্যবহার করে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা হ্যাক করেছে।

বৈশ্বিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক সুইফটের অনলাইন নথি হ্যাক করে শ্যাডো ব্রোকার্স নামের একটি হ্যাকার দল। তারা এ দাবি করেছে।

এ খবরের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা হবে ২০১৩ সালে স্নোডেনের তথ্য ফাঁস ঘটনার পর বৃহত্তম তথ্য ফাঁসের ঘটনা। অবশ্য সুইফট ইতিমধ্যে এ খবরকে ভুল বলে বর্ণনা করেছে। এনএসএ কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।

বেলজিয়ামে অবস্থিত সুইফট একটি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিশ্বের ব্যাংকগুলো অর্থ আদান-প্রদানের কাজ করে। এই নেটওয়ার্কে ছোট ছোট ব্যাংকগুলো অর্থ লেনদেনের জন্য প্রায় সময়ই সার্ভিস ব্যুরোর সাহায্য নেয়। হ্যাক করা নথিপত্রে দেখা গেছে প্রধান সার্ভিস ব্যুরোর অন্তত একটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করা হয়েছিল।

শ্যাডো ব্রোকার্স প্রকাশিত নথির তালিকায় দেখা গেছে, দুবাইয়ে অবস্থিত ইস্টনেটস নামক ওই সংস্থাসহ একাধিক ব্যাংকের ইলেক্ট্রনিক সিস্টেমে ইমপ্ল্যান্ট নামক তথ্য সংগ্রহকারী সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাঁস হওয়া তথ্যানুযায়ী, ইমপ্ল্যান্ট- এর মাধ্যমে মার্কিন সরকার সন্ত্রাসী সংস্থাগুলোর আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারি করত। ইস্টনেটস অবশ্য এ দাবি অস্বীকার করেছে।

হ্যাকাররা মাইক্রসফট কোম্পানির সফটওয়্যারে একাধিক ‘জিরো ডেজ’খ্যাত নিরাপত্তা ত্রুটি বের করেছে। মাইক্রসফট বলছে, তারা তা খতিয়ে দেখবে।

অন্যদিকে, এসব ত্রুটির কথা সফটওয়্যার তৈরিকারকদের কাছে প্রকাশ না করার জন্য এনএসএর সমালোচনা হচ্ছে।

এই হ্যাকিংয়ের ফলে যে পরিমাণ তথ্য বের হয়েছে, কালো বাজারে তার মূল্য ২০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। ইতিমধ্যে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে তা বিক্রি করার চেষ্টা করা হলেও তাতে সফল হয়নি হ্যাকাররা।