বিভিন্ন স্থানে গুম ও খুনের ঘটনায় মন্ত্রিসভার উদ্বেগ প্রকাশ

নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুম ও খুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলার অবনতিতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী নিজেই নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনোভাবেই হোক গুম-খুনসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হউক তার বিচার হবে। নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমান ও আইভীর কারণে এসব ঘটনা ঘটছে কি না তাও খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্ধারিত এজেন্ডার বাইরে অনির্ধারিত আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মন্ত্রী জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রায় সব মন্ত্রীই গুম-খুন ও নারায়ণগঞ্জের সার্বিক বিষয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আনেন।

তারা জানান, এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণের পর হত্যা করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।  এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র‌্যাব-১১ জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নিহত নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূর হোসেন লোমহর্ষক এ ঘটনায় র‌্যাবকে ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী জানান, র‌্যাব-১১-এর সিও লে. কর্নেল তারেক সাইদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এছাড়াও র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বর্তমান মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্যের জামাতা। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। তবে বৈঠকে কেউ ওই মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *