বিজেপি খাদ্য, ধর্ম ও ভাষার নামে দেশবাসীকে বিভক্ত করছে: কংগ্রেস

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও লোকসভার সদস্য গৌরব গগৈ নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলছেন, বিজেপি দেশবাসীকে খাদ্য, ধর্ম ও ভাষার নামে দেশবাসীকে বিভক্ত করছে।

আজ (শুক্রবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, গৌরব গগৈ বলেন, ‘গরু নিয়ে যখন রাজনীতি চলছে তখন মানুষের ওপরে হামলা এবং প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটছে। ছাত্রসহ সাধারণ মানুষ গরুর গোশত ভক্ষণ করলে তাদের মারধর করা হচ্ছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী দুই কোটি তরুণদের চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।’
কংগ্রেসের সিনিয়র মুখপাত্র পিপুল পুনিয়া বলেন, ‘গত তিন বছরে কেন্দ্রীয় সরকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য আমাদের প্রতিবেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভুল নীতির জন্য ভারতকে বিচ্ছিন্ন হতে হচ্ছে। মোদি সরকার দেশবাসী এবং বিদেশে বাস করা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত ৩ বছরের কার্যকালে দেশে সন্ত্রাসবাদ এবং মাওবাদী সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জম্মু-কাশ্মিরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং তা আরও খারাপ হতে চলেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্থানে পাথর ছোঁড়া হচ্ছে।’

পিপুল পুনিয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভুল নীতির কারণে জম্মু-কাশ্মিরের পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ নিয়ে কোনো কংক্রিট পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কাশ্মিরে চতুর্দিকে সহিংসতা, অশান্তি ও উগ্রবাদ চলছে। গণতন্ত্র বিপদাপন্ন। দেশে গত ৩ বছরে ৫৭৮ জওয়ান এবং ৮৭৭ নাগরিক নিহত হয়েছে। শুধুমাত্র জম্মু-কাশ্মিরেই ২০৩ জওয়ান শহীদ হয়েছে। জম্মু-কাশ্মিরে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ১,৩৪৩ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। গত ২১ মাসে ভারতে ১৭২ টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে এর মধ্যে ১২টি বড় হামলা।’ সরকার মাওবাদী সমস্যা নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং মাওবাদ দ্রুত ছাড়াচ্ছে বলেও পি এল পুনিয়া অভিযোগ করেন।