বায়ু দূষণ: পাঁচ বছরে হাঁপানি রোগী বেড়েছে ২৪ গুণ

২০২০ সাল নাগাদ শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং দীর্ঘসময় ধরে দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকার কারণে দেশে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তাছাড়া বায়ু দূষণ শুধু স্বাস্থ্যঝুকির কারণ নয়, পরিবেশ ও অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে চলেছে।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন -এসডো আজ সোমবার একটি ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিং এ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে ‘বাংলাদেশে বায়ু দূষণ: অভ্যন্তরীণ এবং বহিরাগত উৎস আলোচিত হয় ।

এতে আরো বলা হয় বিশ্বব্যাপী ঢাকা চতুর্থ দূষিত শহর। বায়ু দূষণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করেছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার, বিকলাঙ্গতা, শ্বাসযন্ত্রের দুর্বলতা জনিত কারণে মৃত্যু, স্ট্রোক, ফুসফুস ক্যান্সার, ডায়াবেটিস সহ নিউমোনিয়ার মত ছোঁয়াচে রোগের কারণও বায়ু দূষণ।

এতে আরো জানান হয়, এসডোর সাম্প্রতিক এক গবেষণা তথ্য অনুযায়ী বিগত ১১ মাসের বায়ুমান সূচকে বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক দূষণের মাত্রায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় এবং ঢাকা নগরী চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে এসডো জানায় বায়ুদূষণ শুধু স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নয়, এটি অর্থনৈতিক এবং ইকোসিস্টেমের ঝুঁকিরও কারণ। এই গবেষণায় প্রতীয়মান হয় যে, বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব। এই গবেষণাটি করা হয়েছে বাংলাদেশ এবং বিভিন্ন দেশের বায়ুদূষণের তুলনামূলক মুল্যায়নের মাধ্যমে বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের দিক সমূহ।

এ প্রেস ব্রিফিং-এ উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. আবু জাফর মাহমুদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট শাখা) ড. মো: আবদুল মোতালিব, নিপসমের পেশাগত ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: শাফিউর রহমান, এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানাসহ এসডোর অন্যান্য সদস্যরা। তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

এই গবেষণায় বলা হয় বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব। এই গবেষণাটি করা হয়েছে বাংলাদেশ এবং বিভিন্ন দেশের বায়ুদূষণের তুলনামূলক মুল্যায়নের মাধ্যমে বায়ু দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের দিক সমূহ।

এতে বলা হয় গত পাঁচ বছরে (২০১৫- ২০১৯) সার্বিকভাবে হাঁপানি রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৪ গুণ বেড়ে ৩৩২৬ জন (২০১৫) থেকে ৭৮৮০৬ জনে (২০১৯) দাঁড়িয়েছে, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ গুণ বেড়ে ৫৬ জন থেকে ৫৮৮ জনে উপনীত হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসজনিত রোগীর সংখ্যা ২০১৫ সালে ১৬১০ জন থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে ৭৮৮০৬ জনে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪৯ গুণ বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যমতে এই সময়ে মৃত্যু সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ।

এই গবেষণায় শহর এবং গ্রামীণ অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক বায়ু দূষণের দিক সমূহ আলোচনা করা হয়।

এখন সময়/এসএমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *