বাংলাদেশের নির্বাচনের বর্ষপূর্তি : ডেডলাইন ২৯-৩০ ডিসেম্বর

আগামী ৩০ ডিসেম্বর এক বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত-সমালোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওইদিন ঘিরে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। বড় ধরনের বিক্ষোভ করতে চায় বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

 

বিরোধী দলগুলো ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ২৯ তারিখে রাতেই হয়ে গেছে অভিযোগে করে এই সরকারকে ‘মিডনাইটের অবৈধ সরকার’ বলে অ্যাখ্যায়িত করে আসছে। এজন্য জনগণের ভোটাধিকারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সামনে আগামী ২৯ ডিসেম্বর সমাবেশের ঘোষণাও দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

 

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘তারিখের প্রোগ্রামে বাধা দিলে ৩০ তারিখ প্রোগাম হবে, ওইদিন যদি বাধা বা হামলা হয় তাহলে ১ তারিখ থেকে শুরু হবে কঠোর আন্দোলন।’

 

নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ৩০ ডিসেম্বর হলেও একদিন আগে কেন কর্মসূচি দেয়া হলে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জোটের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “(ভোট) ডাকাতিটা ওইদিন হয়েছিল ২৯ তারিখ রাত্রে। সেজন্য আমরা এই কর্মসূচি দিয়েছি। কোনো বাধা দিলে আরো দুইদিন আমরা কর্মসূচি রাখব।”

 

নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করে দ্রুত পুনর্নির্বাচনের জোরালো দাবি নিয়ে বছরপূর্তির দিনে (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ ও নেতাকর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

 

এছাড়াও দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করবে বাম দলগুলো। বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে ওই দিন বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেত হয়ে কালো পতাকা হাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে কালো পতাকা হাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি পালন করা হবে।

 

নির্বাচনের ফল ছিল পূর্বনির্ধারিত। তাই বর্ষপূর্তির দিনে প্রতিবাদ জানাতে জনগণকে ৩০ ডিসেম্বর কালো পতাকা হাতে রাজপথে নেমে আসার আহবান জানিয়েছেন জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।

 

এদিকে বিরোধী দলগুলোর এমন কর্মসূচির প্রেক্ষিতে এদিন যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কোনোরকম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা দেখা গেলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে সক্রিয় রাখা হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

 

৩০ ডিসেম্বর ঘিরে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কোনও কর্মসূচি দেয়নি। তবে আগামী ৭ জানুয়ারি সরকারের বর্ষপূর্তি জাঁকজমকভাবে পালনের প্রস্তুতি রয়েছে ক্ষমতাসীন দলটির। গত বছরের এই দিনে টানা তৃতীয় মেয়াদে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকার শপথ নিয়েছিল। ৭ জানুয়ারি বড় ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে রাজধানীতে শোডাউনের পরিকল্পনা করছে তারা। সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়েও শোভাযাত্রা ও সমাবেশের মতো কর্মসূচি দেয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

প্রসঙ্গ, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত ও কাঙ্খিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৯টি আসনে জয়লাভ করে। এ ছাড়া বিএনপি ৭টি, গণফোরাম ২টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩টি আসনে জয় পান।

 

নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ২০১৯ সালের ৪ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। তবে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে প্রথমে শপথ গ্রহণ বর্জন করে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। এরপর ৭ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণ করে, যেখানে চতুর্থ বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ সরকারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রীও শপথ নেন।

 

এদিকে নির্বাচনে ভোটের আগে রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি, কেন্দ্র দখল, সাধারণ ভোটারদের ভোটদানে বাধা, জালভোট, প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলাসহ ব্যাপক কারচুপি ও সাজানো নির্বাচনের অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তাদের নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথ নেবেন না বলেও ঘোষণা দেয়।

 

জোটের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত ৭ মার্চ শপথ নেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। এরপর সিলেট-২ আসন থেকে গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে থেকে নির্বাচিত আরেক সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান শপথ নেন।

 

দলের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঠাকুরগাঁও–৩ (পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল) আসনে বিএনপি থেকে মনোননয়ন নিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদও ২৫ এপ্রিল সংসদ সচিবালয়ে শপথ গ্রহণ করেন।

 

এনিয়ে তাদের সমালোচনা শুরু হয়। তবে হঠাৎ করেই ২৯ এপ্রিল এসে ইউটার্ন নেয় বিএনপি। সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ওইদিন বিকেলে দলীয় সিদ্ধান্তেই শপথ নেন বিএনপির মোশাররফ হোসেন (বগুড়া-৪), মো. আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), হারুন উর রশিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩) এবং উকিল আবদুস সাত্তার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)।

 

তবে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে খালেদা জিয়ার পরিবর্তে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পরও তিনি শপথ নেননি। মির্জা ফখরুল শপথ না নেয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে সেখান থেকে বিএনপির গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ নির্বাচিত হয়ে ১১ জুলাই শপথ নেন।

 

অবশ্য তাদের মতে, কৌশলগত কারণেই দল ও জোটের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নিয়ে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চলমান রয়েছে। দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

 

 

 

আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে বাদ পড়লেন ৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

 

আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই হলো যাদের

 

আওয়ামী লীগের ১৯ নারী, বাদ ইন্দিরা-মুন্নু-সিমিন

 

আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও নেই মন্ত্রিসভার কেউ

 

আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই হলো যাদের

 

‘রাজাকারের তালিকা যাচাই না করে বে-আক্কেলের মতো কাজ করেছি’

 

বিমান সেনাদের সজাগ থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

 

ডিপজলের বাসায় হঠাৎ পুলিশের হানা, ভেতরে চিত্রনায়িকা রেসি!

 

বছর জুড়ে নায়িকাদের যত বিতর্কিত ঘটনা!

You Might Also Like