বাংলাদেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যার ক্রমাবনতি, ঢাকার আশপাশে বাড়ছে পানি 

বন্যা

বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বন্যা ক্রমশ গ্রাস করছে রাজধানীর আশপাশের এলাকা। ঢাকার চারদিকের নদীর পানি বাড়ছে। আরো অবনতির আশঙ্কা করছেন বন্যা বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যাব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. তারেকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবার কারণে মধ্য অঞ্চলের বন্যা ঢাকার দিকে এগিয়ে আসছে। এ পানি আরো বৃদ্ধি পাবার পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে ঢাকার পার্শ্ববর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী- ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট, তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁ নদের পানি এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধা, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এদিকে সুরমা, সারী, ধলাই নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে পূর্বাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জ ও সিলেটে।

ওদিকে বন্যদুর্গত এলাকায় জনদূর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তীব্র হয়েছে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা।

সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দেশে আগামী তিনদিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। এ সময় রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসাথে দেশের কোথাও-কোথাও মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

রাজধানীতে ঢুকতে শুরু করেছে বন্যার পানি

করোনা মহামারির মধ্যেই বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে দেশের বেশ কিছু অঞ্চল। এরইমধ্যে রাজধানী ঢাকার চারপাশে বন্যার পানি আসতে শুরু করেছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি শিগগিরই উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই। বরং দিন যত গড়াচ্ছে, বন্যার পানি আরো ফেঁপে উঠছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর কাছের নদ-নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। এরই মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কিছু এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডেমরা থানার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের নলছাটা, দুর্গাপুর, তাম্বুরাবাদ, ধিত্পুর, খলাপাড়া, ঠুলঠুলিয়া, আমুলিয়া-মেন্দিপুর এলাকার নিম্নাঞ্চল বালু নদের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খিলগাঁওয়ের ডিএসসিসির ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোর মধ্যে ইদারকান্দি, ফকিরখালী, দাসেরকান্দি ও গজাইরাপাড়ার রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলের কমপক্ষে তিন কিলোমিটার রাস্তা তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরপানি জমেছে। এ ছাড়া ওয়ার্ডের ত্রিমোহনী, লায়নহাটি, নাগদারপাড়, নাসিরাবাদসহ বেশির ভাগ এলাকার নিম্নাঞ্চল ও বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেড় শতাধিক ঘরে প্রবেশ করেছে বানের পানি।

এলাকাবাসী জানায়, ডিএসসিসির ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণগাঁও, ভাইগদিয়া ও মানিকদিয়া খালের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এদিকে ডিএসসিসির ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের মান্ডা, কদমতলী, ঝিলপাড়া ও উত্তর মান্ডা এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ খালের মাধ্যমে বালু নদের পানি ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। আর খালতীরবর্তী বেশির ভাগ বাড়িতেই পানি ঢুকেছে। এ ছাড়া ডিএসসিসির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুগদাপাড়া খাল এলাকার নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে রাজধানীর সবুজবাগ, বাড্ডা, বেরাইদ, ডুমনি, সাঁতারকূল, দক্ষিণখান, টঙ্গী, গাজীপুরের কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জের দিকে প্রবাহিত বালু নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোও প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া বালু নদ তীরবর্তী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শাখা নদের সংযোগ ও ছোট-বড় সংযোগ খালেও বানের পানি ঢুকেছে। বন্যার পানিতে ১৫ দিন ধরে ডুবে আছে রূপগঞ্জের নিচু এলাকা। শীতলক্ষ্যা ও বালু নদের পানি গতকাল বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

দেশের উত্তরের ধরলা ও তিস্তার পানিও কমছে না। উল্টো আগামী ২৪ ঘণ্টায় ওই দুটি নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। নীলফামারী, লালমনিরহাটসহ উত্তরের জেলাগুলোতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হবে। তবে কিছুটা আশার খবর হলো, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে।

মৌসুমি বায়ু ফের সক্রিয় হওয়ায় গত সোমবার থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে দেশের প্রায় সব জেলাতেই। কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণও হচ্ছে। এতে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীলও আছে। চলমান বন্যা ঈদুল আজহা পেরিয়ে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর ও নওগাঁর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অন্যদিকে ঢাকার আশপাশের জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তিনি বলেন, তাঁদের পর্যবেক্ষণে থাকা ১০১টি পানির স্টেশনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩টির পানি বেড়েছে, ৫৫টির কমেছে। তিনটির পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। বিপৎসীমার ওপরে নদীর সংখ্যা ১৮। বিপৎসীমার ওপরে স্টেশনের সংখ্যা ২৯।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত জেলা ৩১টি। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ।

বন্যাকবলিত উপজেলার সংখ্যা ১৫৩ এবং ইউনিয়নের সংখ্যা ৯০৮। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৯ লাখ ৮৪ হাজার ৮১৯ এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৪৭ লাখ দুই হাজার ১৭৯। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এক হাজার ৬০৩টি। এ পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত লোকসংখ্যা ৮৯ হাজার ৩০০। বন্যাকবলিত জেলায় এ পর্যন্ত মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে ৯০১টি এবং বর্তমানে চালু আছে ৩৮৫টি।

 

 

বাংলাদেশের থানায় বোমা বিস্ফোরণ : আইএসের দায় স্বীকার, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি

 

বাংলাদেশের পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার আইএসের!

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বান কি মুনের ফোন