বরিশাল সিটি মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

বুধবার বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে এ মামলা দুটি দায়ের করা হয়।

আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন মামলা দুটি গ্রহণ করে পরবর্তী আদেশের জন্য রেখে দেয়ার নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন মামলা দুটি পরিচালনাকারী আইনজীবী মো. আজাদ রহমান।

মামলা দুটিতে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আরো কয়েক জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন জেএল ৪৭ নম্বর কাউনিয়া মৌজার এসএ ৫৫৯ নম্বর খতিয়ানের হাল ৯৭৮ নম্বর দাগের এক একর জমির ক্রয় সুত্রে মালিক হিসেবে ভোগ দখল করে আসছিলেন বর্তমানে নিখোঁজ মহানগর যুবলীগ নেতা আলহাজ্ব গাজী শফিক উল্লাহ মোনায়েম।

তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশুনা করে আসছে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যেমে ঐ জমি আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এর সুত্র ধরে গত ৮ মে ওই জমির মালিক পক্ষকে কোন কিছু না জানিয়েই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ভেঙ্গে ফেলে সিটি কর্পোরেশন।

এরপর জমিটির বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে সেখানে পুণরায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের অনুমতি চেয়ে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামালের কাছে একটি লিখিত আবেদন করে মোনায়েম পরিবার।

ওই আবেদনে বরিশাল দুই আসনের সাংসদ এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস সুপারিশও করেন।

গত ২৫ মে সিটি কর্পোরেশনে ওই আবেদন গৃহীত হলে মৌখিকভাবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু করার অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও থেমে থাকেনি প্রভাবশালী চক্রটি। এবার তারা ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুণরায় ভেঙ্গে সেখান থেকে ড্রেন নির্মাণের পাঁয়তারা শুরু করে। মোনায়েম পরিবার এতে বাধা দিলে এ নিয়ে গত ১৬ নভেম্বর স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের নানা হুমকি দেয়।

এ অবস্থায় নিজেদের বৈধ সম্পত্তিতে নির্বিঘ্নে বসবাস করার লক্ষ্যে আইনী পদক্ষেপ চেয়ে বুধবার মোনায়েমের বাবা হারুন অর রশিদসহ তার পরিবারের ৬ সদস্য বাদি হয়ে আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, বরিশাল নগরীর চরকাউয়া খেয়াঘাটে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘটনায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে দখলদাররা।

এ মামলার বিবাদীরা হলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামাল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র দাস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল, হাট-বাজার শাখা প্রধান নূরুল ইসলাম, রোড ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন, বিআইডব্লিউটিএর নদী বন্দর শাখার যুগ্ম পরিচালক, সহকারী পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী।

বরিশাল স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি বাস্তুহারা শ্রমিক লীগের বরিশাল সদর উপজেলা সভাপতি আবুল কালাম শরীফ, মজনু মিয়া, নূরুল ইসলাম, আজিজুর রহমান আজু, চেরাগ সরদার ও আব্বাস উদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে গত ১০ নভেম্বর উচ্ছেদের নামে চরকাউয়া খেয়াঘাটে অবস্থিত ৬টি দোকানঘর ভেঙ্গে দেয় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। অথচ বিআইডব্লি-উটিএর কাছ থেকে জমি লীজ নিয়ে ওই স্থানে দোকানঘর উঠিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর ওই ছয় ব্যক্তি লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে সিটি কর্পোরেশন ও বিআইডব্লিউটিএর বিরোধপূর্ণ জমি রাতের আঁধারে দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে। পর দিন ২৮ অক্টোবর নির্মাণাধীণ দোকানঘর উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা।

এক পর্যায়ে, অভিযান কার্যক্রম স্থগিত করে ফিরে যান তারা। ফের ১০ নভেম্বর পূর্ণ জনবল ও থানা পুলিশের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় সিটি কর্পোরেশন। ওই সময় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীরা কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল ও বাজার তত্ত্বাবধায়ক মু. নুরুল ইসলামসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। তবে শেষ পর্যন্ত সব অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলেন তারা।