বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণ দাবিকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে নিউইয়র্কে সমাবেশ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি তোলার ধৃষ্টতার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউইয়র্কে। জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবিকারী বক্তা এবং নেতৃত্বকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্কের সচেতন নাগরিক সমাজ আয়োজিত এই পথসভায় সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয় বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় সূর্য সন্তানদের ভাস্কর্য দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় স্থাপন করতে হবে।

প্রতিবাদ সভার সমন্বয়ক নাট্যকার ও সাংবাদিক তোফাজ্জল লিটনের সঞ্চালনায় অ্যাক্টিভিস্ট মুজাহিদ আনসারী বলেন, ‘আমরা লালনের ভাস্কর্য, হাইকোর্টের সামনের ভাস্কর্য এবং সনাতন ধর্মের মূর্তি ভাঙ্গার প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু সরকার কোনো কর্ণপাত না করে মৌলবাদীদের আস্কারা দিয়েছে। তাই এখন এইসব ধর্মান্ধরা জাতির জনকের ভাস্কর্য অপসারনের দাবি তোলার মতো স্পর্ধা দেখাতে পারছে।’ তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র মহানগর আওয়ামী লীগ এর যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কোনো দলের না তিনি মানেই পুরো বাংলাদেশ। জাতির পিতাকে নিয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা যারা দেখিয়েছে, তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

নিউইয়র্ক প্রজন্ম ৭১ এর সভাপতি শিবলী সাদিক বলেন, ‘এই সব কাটমোল্লাদের আস্ফালন দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাদেরকে সামাজিক ভাবে বয়কট করতে হবে। তাদেরকে এখনি রুখে না দিলে তারা দেশটাকে পাকিস্তান আফগানিস্তান বানিয়ে ছাড়বে। সেটা হতে দেয়া যাবে না।’

বাংলাদেশ ক্লাব ইউ এস এর সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক হায়দার বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সেটা মনে রেখে চলতে হবে সবাইকে। ধর্মান্ধতা বাংলাদেশের প্রকৃত পরিচয় নয়। ফলে যারা এমন কথা বলবে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন গোলাম কিবরিয়া অনু বিভাস মল্লিক। প্রতিবাদ ও পথসভায় সংহতি জানান কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ইয়াসমিন ফাত্তাহ ঝর্ণা, গোলাম হোসেন কুটি, মহানগর আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্রের সহ-সভাপতি এম উদ্দিন আলমগীর, সাংবাদিক আব্দুল হামিদ এবং শাহ জে চৌধুরী প্রমুখ