পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ: কঠোর অবস্থানের আভাস বাইডেনের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো ফোনালাপ করেছেন জো বাইডেন। এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আভাস দিয়েছেন তিনি। তবে পারমাণবিক অস্ত্রচুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এছাড়া রুশ বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যাচেষ্টা ও গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাইডেন।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের বরাতে গার্ডিয়ান ও বার্তা সংস্থা এএফপি এমন খবর দিয়েছে। মোতায়েন করা পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা কমিয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়াতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।

একই সময়ে রুশ বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে গ্রেফতার ও বিষপ্রয়োগ নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বাইডেন। যদিও তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

এ ছাড়া রুশ আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বে জোরালো সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন বাইডেন।

মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থাকে নিশানা করে গত বছরের সোলার উইন্ড সাইবার হামলাও তাদের আলোচনায় উঠে আসে। রাশিয়া এ হামলার জন্য দায়ী বলে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে।

মার্কিন সেনাদের হত্যার বিনিময়ে তালেবান ও অন্যান্য উগ্রপন্থীদের রাশিয়া অর্থের প্রস্তাব দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন নিয়ে পুতিনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বাইডেন।

দুই পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানদের ফোনালাপ নিয়ে হোয়াইট হাউস বলছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন, জাতীয় ও মিত্রদের স্বার্থরক্ষায় রাশিয়ার যে কোনো পদক্ষেপের কড়া জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষামূলক অবস্থায় থাকবে।

রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে চাচ্ছেন বাইডেন, পাশাপাশি মস্কোর সঙ্গে অস্ত্র চুক্তিতেও অগ্রগতি চাচ্ছেন। ট্রাম্পের অধীন যা একেবারে ভেঙে পড়েছিল।

ক্রেমলিন বলছে, আলোচনায় বাইডেন ও পুতিন সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরবর্তীতে পরমাণু চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়াতে পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করেছেন রুশ নেতা।