পাপিয়ার মামলা ডিবিতে হস্তান্তর : সুবিধাভোগিদের সন্ধানে র‌্যাব

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে মামলা হস্তান্তর করা হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এছাড়া পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হয়েছে। এ সময় সুবিধাভোগিদের তালিকা ও গুরুত্বপূর্ণ আরো তথ্য পাওয়া যাবে ধারণা করছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার রাতে বিমান বন্দর থানার ওসি বিএস ফরমান আলী জানান, গ্রেফতার হওয়া পাপিয়ার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার কাছ থেকে আরো তথ্য উদ্ধার করতে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন বলেন, পাপিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলা ডিবিতে হস্তান্তর হয়েছে। পাপিয়া ১৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। তবে মামলাগুলো ডিবিতে আসলেও জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ হয়নি।

তিনি আরো বলেন, তবে ডিবি পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এ সময় পাপিয়ার সাথে কারা জড়িত, কারা ইন্ধনদাতা, তার অর্থের উৎস কী, তার এত বেপরোয়া আচরণের পেছনে শক্তির উৎস কী এ সবই দেখা হবে। এমনকি অনৈতিক বিষয় থাকলেও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

এদিকে, পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক সুজয় সরকার বলেন, পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদরে জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করা হয়েছে।

আশা করি দুই একদিনের মধ্যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি আমরা পেয়ে যাব। অনুমতি পেলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে সুবিধাভোগিদের বের করা হবে। এছাড়াও তিনি কার কার কাছ থেকে সুবিধাভোগ করেছে সেই তথ্যও বের করা হবে।

র‌্যাব ১ এর অধিনায়ক শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, আমরা পাপিয়াকে গ্রেফতার করেছি। কিন্তু আদালতে হাজির করার কারণে অনেক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমনকে আটক করা হয়। এ সময় সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা নামের তাদের দুই সহযোগিকেও আটক করে র‌্যাব। পরদিন রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে ও নরসিংদীতে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ তাদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব।

এছাড়া একই দিন রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি আবার শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে একটি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। পরে মামলা তিনটি গত বুধবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

এ সক্রান্ত আরো খবর

 

পাপিয়ার পাপে নজরদারিতে ১৫ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি

 

পাপিয়ার কললিস্টে প্রভাবশালী কারা?

 

হতাশ পাপিয়ার প্রশ্ন-‘আমি কী অপরাধ করলাম!’

 

পাপিয়া প্রথমেই যেখানে নিয়ে যেতেন অতিথিদের

 

পাপিয়াদের পাপে ফেঁসে যাচ্ছেন আরো যারা!

 

পাপিয়ার পাপে বিব্রত সরকার : সারাদেশে যুব মহিলা লীগ নেত্রীদের সম্পর্কে খোঁজ নেয়া শুরু

 

মাত্র ৫ বছরেই মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী পাপিয়া

 

পাপিয়ার ‘আঁচলে’ বাধা বড় নেত্রীসহ যত পাপীরা

 

পাপিয়ার কল লিষ্টে যত মন্ত্রী ও এমপি

 

সুন্দরী তরুণীদের সংগ্রহ করে জলসা সাজাতেন পাপিয়া

 

অশ্লীল শুটিং রোধে পুলিশের অভিযান

 

You Might Also Like