দুধ দিয়ে আওয়ামী লীগ অফিস ধোয়ামোছা

শাহীন চাকলাদার যশোর-৬ আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় কেশবপুরে দলটির কার্যালয় দুধ দিয়ে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করেছেন তার অনুসারীরা।
আর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে যশোর থেকে মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি তাড়াবেন তিনি। যদিও এই সব অপকর্মে জড়িতদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সাব্কে প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইসমত আরা সাদেকের মৃত্যুতে কেশবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত যশোর-৬ আসন ফাঁকা হয়, ২৯ মার্চ এখানে ভোটের তারিখ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসমত আরা সাদেকের স্বামী এ এস এইচ কে সাদেকও ছিয়ানব্বইয়ের আওয়ামী লীগ সরকার আমলে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।

এবার এই পরিবারের বাইরে গিয়ে কেউ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় এতদিন তাদের সঙ্গে বিরোধে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী তারা খুশি হয়েছেন।

ইসমত আরা সাদেক অনুসারীদের ‘হাতুড়ি ও গামছা বাহিনী’ আখ্যায়িত করে সমালোচনা করছেন তারা। শাহীন চাকলাদার মনোনয়ন পাওয়ায় ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন তারা।

মঙ্গলবার সকালে পুলিশ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যান শাহীন চাকলাদারের সমর্থক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। সেখানকার একটি কক্ষ থেকে পুলিশ কয়েকটি ধারাল অস্ত্র ও ফেনসিডিলের বোতল উদ্ধা করেছে বলে কেশবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানিয়েছেন।
এরপর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গরুর দুধ দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ওই কক্ষটি ধুয়েমুছে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, “গত ৬ বছরে আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকতে পারিনি। আজ সকালে অফিসে এসে দেখি পুলিশ হাতুড়ি ও গামছা বাহিনীর দখলে থাকা কক্ষটির তালা খুলে দেশি অস্ত্রশস্ত্রসহ ফেনসিডিলের বোতল উদ্ধার করেছে।”

উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাবেয়া ইকবাল বলেছেন, “গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারকে যশোর-৬ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করায় হাতুড়ি ও গামছা বাহিনীর সদস্যসহ তাদের গডফাদাররা গা ঢাকা দেয়। আওয়ামী লীগের নির্যাতিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ দলে দলে এই বাহিনীর সদস্যদের খুঁজতে থাকে। একই সাথে তাদের দখলে থাকা দলীয় কার্যালয়টি গরুর দুধ দিয়ে ধুয়ে তাদের অপকর্মের পাপমোচন করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিনি ঢাকায় ছিলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে যশোরে ফিরেছেন। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে সকালেই জেনেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের দলের জননেত্রী শেখ হাসিনা যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন সেই শুদ্ধি অভিযান চলবে। দলের মধ্যে ভূঁইফোড়, অনুপ্রবেশকারী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি থাকবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ থাকবে।

“আমি চাই, কেশবপুরের মানুষ যেন দরজা খুলে ঘুমাতে পারে।”

You Might Also Like