তিস্তার প্রবল স্রোতে গঙ্গাচড়ায় ৩ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন

অব্যাহত বৃষ্টি ও দুই দফায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার প্রবল স্রোতে ৩ শতাধিক পারিবারের ঘর-বাড়ি ও বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে তিস্তা প্রতিরক্ষা ডানতীর বিজয় বাঁধসহ একাধিক প্রান্তিক বাঁধ। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে তিস্তা পাড়ের লোকজন।

জানা যায়, দু’দফা বন্যায় তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে নোহালী ইউনিয়নে চর নোহালী, বৈরাতী ও নোহালী এলাকার ৩৮টি পরিবারের,  আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান, ব্যাংক পাড়া ও হাজীপাড়া এলাকায় ১০০ পরিবারের, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, সাউদপাড়া ও বিনবিনা চর এলাকায় ৬০টি পরিবারের, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, পশ্চিম ইচলি ও ইশোরকুল এলাকায় ১০০ পরিবারের, গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক এলাকায় ২টি পরিবারের ঘর-বাড়ি, বসত-ভিটা ও আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

হুমকির মুখে পড়েছে তিস্তা প্রতিরক্ষা ডানতীর বিজয় বাঁধ ও একাধিক প্রন্তিক বাঁধ। ইতোমধ্যেই তিস্তা প্রতিরক্ষা ডানতীর বাঁধে মহিপুর এলাকায় ১০০ ফুট জায়গা তিস্তার স্রোতে ধ্বসে গেছে। বাঁধটি ভাঙলে লক্ষীটারী, গজঘন্টা ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে। নষ্ট হয়ে যাবে কয়েক’শ একর জমির আমন ক্ষেত। ভাঙন আতঙ্কে তিস্তা পাড়ের লোকজন ঘর-বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। পনি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় লোকজন বালির বস্তা, বাঁশ ও গাছ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

রবিবার ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলকা ঘুরে দেখা যায়, ভাঙন আতংকে নদীপাড়ের লোকজন ঘর-বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। অনেকে তিস্তা প্রতিরক্ষা ডানতীর মূল বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। সরকারি ভাবে ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।