ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় জেএমবি সদস্য আরিফের মৃত্যুদণ্ড বহাল

ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য আসাদুল ইসলাম আরিফের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আজ (রোববার) সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। এ সময় জঙ্গি আসাদুল্লাহ আরিফের পক্ষে ছিলেন নিখিল ভদ্র আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আসাদুল ইসলামের আইনজীবী এন কে সাহা বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আসাদুলের রিভিউ খারিজ হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ায় জঙ্গি আরিফের মৃত্যুদণ্ডে আর কোনো বাধা থাকল না।

২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে জেলার সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়ের গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় বোমা হামলাকারী ইফতেখার হোসেন মামুন, জেলা জজ আদালতের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আব্দুল মান্নান ও ও দুধ বিক্রেতা বাদশা মিয়া আহত হন। আহত অবস্থায় ধরা পড়েন হামলাকারী জেএমবির সদস্য ইফতেখার হাসান আল মামুন।

এরপর এই হত্যা মামলায় জেএমবির শীর্ষ নেতারা আটক হন। জঙ্গিদের ঝালকাঠিতে এনে জেলা জজ আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচারকাজ চলে।

২০০৬ সালের ২৯ মে এই হত্যা মামলার রায়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজা তারিক আহম্মেদ জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই, শায়খের ভাই আতাউর রহমান সানি, জামাতা আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হোসেন মামুন, খালেদ সাইফুল্লাহ (ফারুক) ও আসাদুল ইসলাম আরিফকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

ছয় জঙ্গির ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২০০৬ সালের ৩১ আগস্ট তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে উচ্চ আদালত। ওই বছরের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ছয় জঙ্গির জেল আপিল খারিজ করে দেয়।

২০০৭ সালের ৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি ছয় জঙ্গির প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিলে তাদের ফাঁসি কার্যকর করার উদ্যোগ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। একই মাসের ২৯ তারিখ রাতে আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

একই মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আরেক জঙ্গি আসাদুল ইসলাম আরিফ ২০০৭ সালের ১০ জুলাই ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার হন। এরপর আপিল করে আরিফ। অবশেষে আজ তার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করা হলো। ফলে বরগুনার বান্দরগাছিয়ার আরিফকেও অন্যদের মতো ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতেই হচ্ছে।