কে এই ব্রাজিলের ‘নতুন নেইমার’?

এখন সময় ডেস্কঃব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদো এই তরুণের মধ্যে নিজের ছায়া দেখেন। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমও তাঁকে এরই মধ্যে নাম দিয়েছে ‘নতুন নেইমার’। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদও তাঁকে দলে নিতে রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছে। এ তিনটি তথ্য থেকেই একজন খেলোয়াড়ের মান সম্পর্কে একটা ধারণা পেতে পারেন। কে এই ফুটবলার?

গ্যাব্রিয়েল হেসুস। খেলেন ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরাসে। দুই উইংয়ে, স্ট্রাইকার হিসেবে কিংবা স্ট্রাইকারের পেছনে, আক্রমণে সব জায়গাতেই খেলতে পারদর্শী। বয়স ১৯, কিন্তু এর মধ্যেই বিশ্বজুড়ে নাম ছড়াতে শুরু করেছে এই ব্রাজিলিয়ান তরুণের।
ব্রাজিলের বিখ্যাত যত খেলোয়াড় আছেন, সবার ক্ষেত্রেই এই একটা ব্যাপার খুব স্বাভাবিক। তরুণ বয়সেই বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সান্তোসে থাকার সময় তরুণ নেইমার পেতেন তারকার মর্যাদা। রোনালদো বা রোনালদিনহোরাও। ভবিষ্যতে কী হবে বলা যাচ্ছে না, তবে একই ব্যাপার ঘটছে হেসুসের বেলায়ও।
জন্ম সাও পাওলোতে, বেড়ে ওঠা পাশের জার্দিম পেরি উপশহরে। অন্য অনেক ব্রাজিলিয়ান শিশুর মতো, ফুটবলের প্রথম পাঠ রাস্তার ধারে মনের আনন্দে বল নিয়ে ছোটাছুটিতেই। সেখান থেকেই উঠে আসেন আনহানগেরার বয়সভিত্তিক দলে। প্রথম খবরের শিরোনামে এলেন ২০১২ সালে, অনূর্ধ্ব-১৫ কোপা সাও পাওলোতে ২৯ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন গ্যাব্রিয়েল ফার্নান্দো (তখন এই নামেই পরিচিত ছিলেন আজকের গ্যাব্রিয়েল হেসুস)। এই পারফরম্যান্সই ছোট্ট হেসুসকে চুক্তিতে নিয়ে আসে পালমেইরাসের সঙ্গে।
প্রথম মৌসুমেই তাঁর ঠিকানা হয় পালমেইরাসের অনূর্ধ্ব-১৭ দল। ব্রাজিলের বিখ্যাত ‘ভারদাও’দের (বিগ গ্রিন) হয়ে সেই মৌসুমে ১৬ গোল। পরের মৌসুমে তো ছুটলেন আরও দুরন্ত গতিতে, মাত্র ২২ ম্যাচেই ৩৮ গোল! যা কিনা টুর্নামেন্টের সর্বকালের সেরা রেকর্ড। ফাইনালে সান্তোসের কাছে হেরে পালমেইরাসের শিরোপা জেতা হয়নি, কিন্তু ২০১৪ সালের শেষদিকে এই তরুণকে ৫ বছরের চুক্তিতে বেঁধে ফেলে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি।
গত মৌসুমে কিছু ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন, এই মৌসুমটিই মূলত পালমেইরাসের মূল দলে হেসুসের পূর্ণ মৌসুম। এখানেও সেই একই গতিতে ছুটছেন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এরই মধ্যে অ্যাটলেটিকো ন্যাসিওনালের কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড মার্লোস মরেনো ও রোসারিও সেন্ট্রালের আর্জেন্টাইন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসোর (পিএসজিতে যেতে পারেন) সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন হেসুস।
হেসুসের নামটা অবশ্য দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়িয়ে এরই মধ্যে ইউরোপে চলে এসেছে। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কার খবর, এরই মধ্যে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ একই সঙ্গে লড়াইয়ে নামছে হেসুসকে দলে নিতে। অন্য স্প্যানিশ দৈনিক এএস লিখেছে, হেসুস নাকি এরই মধ্যে কথা দিয়েও রেখেছেন বার্সেলোনাকে। তবে বিশ্বস্ত ইতালিয়ান সাংবাদিক ফাব্রিজিও রোমানো বলছেন, হেসুসকে পেতে বার্সেলোনার সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছে মূলত বায়ার্ন মিউনিখ ও ইন্টার মিলান। দৌড়ে নাকি ইন্টারই এগিয়ে। অবশ্য এখনই নয়, ইউরোপে এলেও অন্তত আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। ব্রাজিলের বর্তমান মৌসুম শেষ হবে ডিসেম্বরে, লিগ শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে থাকা পালমেইরাসকে শিরোপা জিতিয়েই হয়তো ইউরোপে পাড়ি জমাতে চান হেসুস।
ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলো আগ্রহী হওয়ার কারণও আছে। হেসুসের ক্ষিপ্রতা ও ড্রিবলিং দেখে অনেকেই তাঁকে তুলনা দিচ্ছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদোর সঙ্গে। অনেকেই কী, ‘দ্য ফেনোমেনন’ নিজেই তো টিভি গ্লোবোকে বলেছেন, ‘আমি অনেক মিল খুঁজে পাই। এত কম বয়সেই কত সাফল্য ওর, দায়িত্বও নিতে শিখেছে।’
শুধু ক্ষিপ্রতা আর ড্রিবলিংই নয়, গোলমুখে সতীর্থদের খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতাও দারুণ। হয়তো শারীরিকভাবে এখনো দুর্বল, ফিনিশিংও এখনো অনেক উন্নতির দাবি রাখে। তবে অভাবনীয় সব ‘অ্যাসিস্টে’র জন্য বক্সের ২৫ গজ দূর থেকেও যথেষ্ট ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন হেসুস। ব্রাজিল সংবাদমাধ্যমও তাঁর নাম দিয়েছে ‘নতুন নেইমার’। ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য, আসল নেইমারের পাশে তাঁকেও খেলতে দেখা যেতে পারে সামনের অলিম্পিকে।
ব্রাজিলের ফুটবলেরই অনন্ত আক্ষেপ হয়ে থাকা অলিম্পিকে দুর্দান্ত কোনো গল্প লিখতে পারলে, ইউরোপে আসার আগেই হয়তো নিজের নামটা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে পারবেন গ্যাব্রিয়েল হেসুস। তাঁকে সে জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েও রেখেছেন রোনালদো।
‘খেলো, খুশি থাকো, পায়ে বল নিয়ে মজা করো। অনেক কোচই পরে অনেক কিছু করতে বলবে। কিন্তু যখন বল পায়ে থাকবে, নিজের কারিকুরি করো। অবশ্যই গোলের দিকে নজর রাখবে, দিন শেষে সমর্থকেরা গোলই দেখতে চায়।’ গ্লোবো টিভির অনুষ্ঠানে সহজ ভাষায় হয়তো অনূজকে নিজের ক্যারিয়ারের সাফল্যের মন্ত্রটাই বলে দিয়েছেন ‘দ্য ফেনোমেনন’।
সূত্র-গোলডটকম,টুইটার