এ কোন রোনালদো?

এখন সময় ডেস্কঃইউরো ২০১৬-এর প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মার্সেইয়ের স্তাদে দি ফ্রান্সে প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের সামনে এ কোন রোনালদোকে দেখলো সারাবিশ্বের ফুটবল ভক্তরা? যখন পেনাল্টি শ্যুটআউট চলছে, পর্তুগালের অন্য খেলোয়াড়রা যখন কাধেঁ কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো; তখন পর্তুগিজ সুপারস্টার সে দেয়ালের পেছনে বসা। টিমমেটদের পায়ের ফাঁক দিয়ে তিনি দেখেন তার দলের সেমিফাইনাল যাত্রা। এমন ভীরু রোনালদোকে তো আগে দেখেনি ফুটবল বিশ্ব!
রোনালদো আর কিইবা করবেন, তার দলের নাম হয়ে গেছে ‘ড্র স্পেশালিস্টস’। ইউরো জিততে একটি দলের সাতটি ম্যাচ লাগে। পাঁচটি ইতোমধ্যেই খেলে ফেলেছে পর্তুগাল কিন্তু জেতেনি যে একটিও। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়মানুসারে পেনাল্টি শ্যুটআউটের ম্যাচ ড্র হিসেবেই রেকর্ড বুকে সংরক্ষিত হয়।

ইউরোর পাঁচ ম্যাচে রোনালদো প্রতিপক্ষ গোল অভিমুখে এ পর্যন্ত মোট ৪২টি শট নিয়ে গোল করেছেন মাত্র দুটি। পোল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদো নষ্ট করেন চারটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ, বেশ কটি ফ্রি-কিকে তিনি ব্যর্থ হন লক্ষ্যভেদ করতে। শ্যুটআউট যখন চলছে তখন এটিই তাকে সবচেয়ে বেশি পীড়া দিচ্ছিল নিশ্চয়ই! কারণ পর্তুগাল ছিটকে গেলে তাকে যে নিতে হবে এ ব্যর্থতার দায়ভার। জয়ী হওয়ার পর তাই আনন্দে মেতে উঠতে দেখা গেলো পর্তুগিজ অধিনায়ককে। আবারও যে উম্মোচিত হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

এ ম্যাচে আরেকটি আঘাত নীরবে সয়েছেন রোনালদো। সঙ্গে এ ম্যাচে ১৮ বছর বয়স্ক নতুন পর্তুগিজ প্রতিভা রেনাটো সানচেজ সমতাসূচক গোলটি করে ভেঙে দিয়েছেন পর্তুগালের হয়ে কোনও নকআউট ম্যাচে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডটিও। যা এতদিন ছিল রোনালাদোর দখলে।

যাই হোক দলের হয়ে আরেকজন স্কোরারকে দেখাও তো রোনালদোর জন্য সুখের বিষয়। কারণ পর্তুগালের সব গোল তো তাকেই করতে হয়।

সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৬ মিনিটে ফ্রি-কি মারলেন ওয়ালের অনেক উপর দিয়ে। ৫৫ মিনিটে সিলভার চমৎকার স্কয়ার পাসে শট নিয়ে দেখলেন বল আছড়ে পড়েছে বাইরের জালে। এর চার মিনিট পর এলিসিউর মাপা নিচু একটি ক্রসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ৮৪ মিনিটে মুটিনহোর রংধনু ক্রসে ছোট বক্সের ওপর থেকে বল জালে ঠেলতে পারেননি রোনালদো। অবাক বিস্ময়ে তিনি নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে থেকেছেন। ‍অতিরিক্ত সময়ে কারভালহোর একটি জোরালো ক্রসে ফ্লিক করলেই গোল কিন্তু বলের লাইন মিস করলে আবারও নির্বাক হয়ে যান তিনি।

বলে চুমু খেতে খেতে শ্যুটআউটের প্রথম পেনাল্টিটি নিতে যান। মনের মাঝে তখন সেই স্মৃতি দুই সপ্তাহ আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মিস হয়েছে পেনাল্টি। তাই এবার যাতে মিস না হয় সেজন্য গোল করে তিনি দলকে দিলেন জয়ের ভিত্তি। তাকে হতাশ করেননি তার টিমমেটরাও। তাইতো সকলকে ধন্যবাদ দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন অধিনায়ক। কারণ তারা তো ইউরোতে জীবন্ত রেখেছে পর্তুগালকে আর তাকেও!