এইডস আতঙ্কে স্ত্রী-কন্যাকে খুন

এইডসে বাসা বেঁধেছে শরীরে, এই বিশ্বাসে স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের বেতুলের বাসিন্দা মানওয়ার। তবে শেষ পর্যন্ত বিফল হয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। যদিও রক্তপরীক্ষার ফল মিলেছে উল্টো।

শহরের যৌনপল্লিতে যাতায়াতের অভ্যেস ছিল তার। গত ৬ মাস ধরে তাঁর মুখের ভিতরে ঘা হয়। কিছুতেই সেই ক্ষত শুকোয় না। কৌতূহলের বশে ইন্টারনেট হাতড়ে তাঁর ধারণা হয়, তিনি এইডস জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত। এর জেরে স্ত্রী ও মেয়েদের গাড়ির ভিতর জীবন্ত পুড়িয়ে মারেন আতঙ্কিত যুবক। তার পর নিজেও আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ব্যর্থ হওয়ার পর সবকিছু এক বন্ধুর কাছে কবুল করেন। শেষে সেই বন্ধুর পরামর্শ মেনেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

মানওয়ারের দাবি, স্ত্রীকে নিজের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তার জেরে প্রথমে ক্ষুব্ধ হলেও পরে একযোগে আত্মহত্যার পরিকল্পনায় সায় দেন তিনি। তার আগে অবশ্য মেয়েদের হত্যা করার চেষ্টা করেন দু’জন। তবে কিছুতেই তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরিবারের তিন সদস্যকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে অমরাবতীতে পৌঁছন মানওয়ার। পাহাড়ি পথের পাশে গভীর খাদে গাড়ি নিয়ে ঝাঁপ দেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই জ্ঞান হারান। পরে জ্ঞান ফিরলে গাড়ির দরজা বাইরে লক করে আগুন জ্বালিয়ে দেন। তবে নিজে গাড়ির বাইরেই থাকেন। মানওয়ার জানিয়েছেন, জ্বলন্ত গাড়িতে মা’কে আঁকড়ে ধরে ভয়ে চিত্‍কার করতে থাকে তাঁর ছোট মেয়ে। তবে তাতেও উদ্ধারের কোনও চেষ্টা করেননি তিনি।

এর পর একাধিক বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন মানওয়ার। তবে কিছুতেই সফল না হয়ে এক বন্ধুর কাছে গোটা ঘটনা খুলে বলেন। সেই বন্ধুর কথাতেই সেষমেশ আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

যুবকের বয়ানে অবশ্য বিশ্বাস করেনি পুলিশ। তাই তাঁর রক্তের নমুনা পাঠানো হয় পরাক্ষাগারে। রিপোর্টে জানা গিয়েছে, তাঁর রক্তে এইচআইভি জীবাণু মেলেনি। পুলিশের দাবি, রক্ত পরীক্ষার ফল জানার পরও নির্বিকার ছিলেন যুবক।