উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর তথাকথিত রক্তাক্ত হামলা চালাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। তবে পিয়ংইয়ংকে এক পথে অথবা ভিন্নভাবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া বিষয়ক কূটনীতিক সুসান থর্নটন এ মন্তব্য করেছেন বলে শুক্রবার জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এর আগে জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে তারা কূটনৈতিক সমাধানকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে ওই সময় মার্কিন কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর সীমিত পরিসরে হামলা চালাতে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা আলোচনা করেছেন। তবে এই হামলা উত্তর কোরিয়াকে না তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে ফিরিয়ে রাখবে, না দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উনকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে। এই হামলাকে ‘রক্তাক্ত নাক’(ব্লাডি নৌজ) আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তবে কোরীয় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ ধরণের হামলা চালালে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে রক্তাক্ত প্রত্যাঘাত আসবে। গত মাসে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা এবং সম্প্রতি সিউলে শীতকালীন অলিম্পিকে পিয়ংইয়ংয়ের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের যোগদান হামলার বিষয়টিকে চাপা দিতে সক্ষম হয়েছে।

সুসান থর্নটনকে পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সহকারি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ নিশ্চিতকরণ শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের দুই সিনেটর জানিয়েছেন, বুধবার হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তাদেরকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এ ধরনের কোনো নীতি ছিল না।

থর্নটনের কাছে ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটর জিন শাহিন জানতে চেয়েছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘রক্তাক্ত নাক’(ব্লাডি নৌজ) নীতি আছে কি নেই। জবাবে থর্নটন বলেন, ‘এটা আমার বোঝার বিষয়।’ এ ধরণের কেনো নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের নেই বলে জানান থর্নটন।

রিপাবলিকান দলের সিনেটর জেমস রিসচ জানান, প্রশাসনের লোকজন আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, যতদূর সম্ভব ‘রক্তাক্ত নাক’(ব্লাডি নৌজ) নীতি নামে কোনো নীতির অস্তিত্ব নেই। কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, তারা কখনো এ ধরণের বিষয় বিবেচনায় আনেননি বা এ নিয়ে আলোচনাও করেননি।

পূর্ব এশিয়া বিষয়ক মন্ত্রী থর্নটন জানিয়েছেন, পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন রাজী। তবে এ ক্ষেত্রে একমাত্র ইস্যু হবে উত্তর কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণ।