আনন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান ও এমডিকে দুদকে তলব

দেশের ১২টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ম ভেঙে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশে জাহাজ নির্মাণ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান আনন্দ শিপইয়ার্ডের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহেল বারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফরোজা বারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের দুদক কার্যালয়ে হাজির থাকতে নোটিস দেয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, জাহাজ রফতানির নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আনন্দ শিপইয়ার্ড দেশের ১২টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জাহাজ নির্মাণের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া এসব ঋণ দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে এসব জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে। দুদকের উপপরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী এ অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ৪৫৬ কোটি ৩৪ লাখ, এবি ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ, ওয়ান ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে ১১৪ কোটি ২১ লাখ, জনতা ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে ২৩৮ কোটি ৮ লাখ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন শাখা থেকে ২২১ কোটি ২০ লাখ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) প্রধান শাখা থেকে ২৩ কোটি ৯৪ লাখ  ও এনসিসি ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফিনিক্স ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ২৩ কোটি ১৮ লাখ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসিএল) থেকে ১ কোটি ৯৪ লাখ, আইডিএলসি ফিন্যান্স অ্যান্ড লিজিং কোম্পানি থেকে ৩ কোটি ৭২ লাখ, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেড (পিএলএফএল) থেকে ৩ কোটি ও ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (এনএইচএফআইএল) থেকে ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার ঋণ নেয়া হয়েছে। এছাড়া ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (এফএফআইএল) ও হজ ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (এইচএফসিএল) থেকেও ঋণ নেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে  ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে আনন্দ শিপইয়ার্ড। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে এ অনিয়মের বিষয়টি বেরিয়ে এলে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

এসব ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে আনন্দ শিপইয়ার্ড, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছিল বলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জাহাজ নির্মাণের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও এ খাতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এ বিনিয়োগ করা হয়েছে। তাছাড়া কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। আনন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান ও এমডিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ জালিয়াতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আনন্দ শিপইয়ার্ডের সব ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে, তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে তাদের খেলাপি দেখানো যাচ্ছে না।

তবে আনন্দ শিপইয়ার্ড দাবি করছে, আন্তর্জাতিক মন্দার ফলে তাদের বিদেশী ক্রেতারা হঠাৎ অর্ডার বাতিল করে দেয়। এর ফলে ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।