অর্থের জন্য এমনটা করিনি: ওয়াহাব

খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাকিস্তানের টেস্ট দল থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ আমির।

গত বছরের জুলাইয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন আমির। ওয়ার্ক লোড কমাতে এবং সাদা বলের ক্যারিয়ার বড় করতে আমির টেস্ট ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। তাকে অনুসরণ করেন ওয়াহাব রিয়াজ। সেপ্টেম্বরে টেস্ট ক্রিকেট থেকে ‘অনির্দিষ্টকালের বিরতি’ নিয়েছেন ওয়াহাব। দুই বাঁহাতি পেসারের সিদ্ধান্ত মোটেও পছন্দ হয়নি পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টের।

প্রথমে পাকিস্তানের বোলিং কোচ ওয়াকার ইউনুস তাদের সমালোচনা করেন। এরপর প্রধান কোচ ও নির্বাচক মিসবাহ-উল-হক গণমাধ্যমে তাদের ধুয়ে দেন। লাল বলে ক্রিকেটে আগ্রহ না থাকায় তাদেরকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও রাখেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

বিষয়গুলো মোটেও পছন্দ হয়নি ওয়াহাবের।তাইতো প্রকাশ্যে টিম ম্যানেজমেন্ট ও পিসিবির সমালোচনা করলেন। সাফ জানালেন, অর্থের জন্য টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরতিতে যাননি। এছাড়া পাকিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকারও প্রয়োজন নেই, এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

পাকিস্তানের দৈনিক নিউ নেশন্সকে ওয়াহাব বলেছেন,‘একটা বাজে কথা ছড়ানো হয়েছে যে, আমরা টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে এসেছি বিভিন্ন লিগ খেলে অর্থ উপার্জনের জন্য। আমরা অর্থের জন্য এমনটা করিনি। আমরা সব সময় পাকিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছি এবং আমাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত।’

‘দেখুন ২০১৭ সালের পর থেকে আমি পাকিস্তানের লাল বলের ক্রিকেট দলের নিয়মিত ক্রিকেটার নই। আমি হঠাৎই টেস্ট খেলার সুযোগ পেতাম। সর্বশেষ ২০১৮ সালে খেলেছি। লাল বলের ক্রিকেট থেকে মনোযোগ সরিয়ে শুধুমাত্র সাদা বল নিয়ে চিন্তা করছি। এ জন্যই বিরতি চেয়েছি। এটা অন্যান্য তরুণের জন্য বড় সুযোগ। তাদের তৈরি করে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নিয়ে আসার।’ – যোগ করেন ওয়াহাব।

কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ে কোনও আক্ষেপ নেই ওয়াহাবের। উল্টো বললেন,‘পাকিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রয়োজন নেই। আমি সব সময় দেশের হয়ে খেলতে চেয়েছি। এর থেকে বড় সম্মানের কিছু নেই। সামনে যখনই সুযোগ আসবে তখনই আমি দেশের হয়ে খেলতে চাইবো।’

পাশাপাশি এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, এখনই লাল বলের ক্রিকেটে ফেরার ইচ্ছে নেই তার,‘আমি স্বল্প সময়ের বিরতিতে আছি। এখনই লাল বলের ক্রিকেটে ফেরার ইচ্ছে নেই। আমি পিসিবিকে অবশ্যই আমার সিদ্ধান্ত জানাব।’

২৭ টেস্টে ৩৪.৫০ গড়ে ৮৩ উইকেট নিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এ পেসার।