অভিজিৎ হত্যার নিন্দা, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করেছে বিএনপি

লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে বিএনপির নামে একটি বিবৃতি এসেছে গণমাধ্যমে। আত্মগোপনে থাকা বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ শনিবার বিকালে এই বিবৃতি পাঠিয়েছেন, অবরোধের মধ্যে হরতাল আহ্বান করে যার নামে বিবৃতি আসছে।

বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার ফাঁস হওয়া কথোপকথনের সঙ্গে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দাবির মধ্যে এই বিবৃতি এল। সালাহ উদ্দিন বলেন, “টিএসসির মতো স্থানে নিশ্ছিদ্র পুলিশ বেষ্টনির মধ্যেও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে এদেশের কোনো নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ।

“আমরা অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অজয় রায়ের ছেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ ব্লগ সাইট মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতা। লেখালেখির জন্য তাকে বাংলাদেশি জঙ্গি গোষ্ঠী হুমকি দিয়ে আসছিল। বইমেলা উপলক্ষে দেশে ফেরার পর বৃহস্পতিবার টিএসসি এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার ১৪ দলের এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “মান্না-খোকার ফোনালাপে বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ চাওয়া হয়েছিল। অভিজিৎকে হত্যা করে প্রথম লাশটি ফেলেছেন ওনারা। দুঃখজনক হলেও সত্য, তারা তাদের প্রথম কার্যটি সম্পাদন করেছে।”

বিবৃতিতে সালাহ উদ্দিন বলেন, “রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফেরত দেওয়ার এই আন্দোলনকে (২০ দলের) সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপনের সীমাহীন অপচেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।”

বিবৃতিতে চলমান অবরোধের পাশাপাশি শনিবার ২০ দলের গণমিছিল এবং রোববার থেকে ৭২ ঘণ্টা হরতাল পালনের জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির যুগ্মমহাসচিব।

দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “তার যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।”