অবসর নিয়ে ভাবছেন ডেভিড ওয়ার্নার

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ভীষণ পরিবার অন্তঃপ্রাণ মানুষ। করোনার মধ্যে তিন মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে ওয়ার্নারের বিভিন্ন কার্যক্রমও তার প্রমাণ। এছাড়া অজি এই ক্রিকেটার বিভিন্ন সফরে নিজের পরিবারকে সবসময় পাশে রাখেন। কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে পরিবার নিয়ে কোনো সফরে আগের মতো আর যাওয়া যাবে না।

আর এমন বিধিনিষেধের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছে ওয়ার্নার। করোনার কারণে লম্বা সময় ধরে মাঠের বাইরে থাকা ওয়ার্নারের সামনে অনেক খেলা। বিশেষ করে ইংল্যান্ড সফরের পর সামনে আইপিএলের খেলা। এরপরে আবার ভারতের বিপক্ষে সিরিজ। আর এই পুরো সময়ে বায়ো-সিকিউর পরিবেশে থাকতে হবে বলে পরিবারের সঙ্গ পাওয়া সম্ভব নয় ওয়ার্নারের জন্য। তবে ৩৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের কাছে পরিবার সবার আগে।

সেজন্য নিজের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ওয়ার্নার। ইএসপিএনক্রিকইনফোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়ার্নার বলেন, ‘অবশ্যই আমার তিন মেয়ে ও স্ত্রীর কথা ভাবতে হবে। তাদের প্রতি আমার অনেক দায়বদ্ধতা আছে। আমার খেলোয়াড়ি জীবনের অনেক বড় অংশ তারা। আপনাকে অবশ্যই সবসময় নিজের পরিবারের কথা আগে ভাবতে হবে। ক্রিকেট এবং এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে আপনাকে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

চলতি বছর ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার কথা ছিল ওয়ার্নারের। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে সেটি এ মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তী বিশ্বকাপ এখন সামনের বছর ভারতের মাটিতে। তবে সেই বিশ্বকাপে খেলবেন কি খেলবেন না, এ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে জানিয়ে ওয়ার্নার আরও যোগ করেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখন অস্ট্রেলিয়ায় নেই, এখানে থাকলে খেলাটা এবং এটা জেতা সহজ হতো। কিন্তু এটি পিছিয়ে গেছে। সামনে এখন ভারত বিশ্বকাপ। সে ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ, আমি পরিবারের কথাও ভাববো।’

পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে ওয়ার্নার বলেন, ‘প্রায় সময়ই দেখা যায় সফরে গেলে পরিবারের কথা অনেক মনে পড়ে। কিন্তু এখন এসব বায়ো সিকিউরিটির বিষয় যেহেতু রয়েছে, আমরা নিজেদের পরিবার নিয়ে সবখানে যেতে পারব না। অদূর ভবিষ্যতে আমি এর কোনো সম্ভাবনাই দেখছি না।’

আর তাই ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়ার্নার আরও যোগ করেন, ‘আমাকে দেখতে হবে আমি নিজ কোন অবস্থায় থাকি এবং আমার মেয়েদের স্কুলের খবর কী। আমার যেকোনো সিদ্ধান্তের বড় একটা অংশ ওরা। বিষয়টা এমন না যে কবে খেলা ফিরবে কিংবা কতদিন ধরে খেলবো। বরং আমার জন্য এটা অনেক বড় পারিবারিক সিদ্ধান্ত।’