অপহরণের ৪ দিন পর শিশু জিহাদের লাশ উদ্ধার, অপহরণকারি আটক

অপহরণের ৪ দিন পর কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিন ইউনিয়নের মির্জাপুর এলাকা থেকে শিশু জিহাদের (৮) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ঢাকার কামরাঙ্গীচর এলাকা খেকে রবিউল (২২) নামের অপহরণকারি চক্রের মূল হোতাকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মির্জাপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বসত বাড়ির পিছনের কৃষি জমি থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিশু জিহাদ উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী বাবুল মিয়ার ছেলে। শিশু জিহাদ মির্জাপুর গ্রামের ফুলকলি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মো. জিহাদ গত শনিবার দুপুর ২টায় বাড়ির পাশে পাচঁকিত্তা-রামচন্দ্রপুর সড়কে খেলতে যাওয়ার সময় একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় করে ৪/৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি জিহাদকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জিহাদের চাচা মো. শহিদ মিয়া বাদি হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় মুরাদনগর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন।

জিহাদের পারিবারিক সূত্র জানায়, অপহরণের পরদিন রোববার বিকেল ৪ টায় জিহাদের বাড়িতে ফোন করে অপহরণকারিরা জিহাদকে ফিরে পেতে হলে ১ লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য একটি দোকানের বিকাশ নাম্বার দেয়। বাড়ির লোকজন ঐ বিকাশ নাম্বারে কল করে দোকান মালিককে অপহরণের বিষয়টি অবহিত করলে, দোকানের মালিক অপহরণকারীকে আটকে সহযোগিতা করবে বলে জিহাদের পরিবারকে জানায়। দোকানের মালিক জানায়, তার দোকানটি ঢাকার নয়া পল্টনে। পরে জিহাদের পরিবার এ বিষয়টি মুরাদনগর থানা পুলিশকে অবহিত করে। পরে ঢাকাতে অবস্থানরত গ্রামের এক লোকের সহযোগিতায় গতকাল সোমবার বিকেলে কামরাঙ্গীচর এলাকা থেকে অপহরণকারি রবিউলকে আটক করে পল্টন থানা পুলিশ।

রাতে মুরাদনগর থানা পুলিশ আটককৃত রবিউলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুরাদনগর থানায় নিয়ে আসে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে শিশু জিহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে মুরাদনগর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হয়ত তাকে ফাঁস দিয়ে অথবা শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শিশুটির লাশটি পঁচে ফুলে গেছে। আটক হওয়া রবিউলই মূল হত্যাকারি বলে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছি।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই শনিবার দুপুরে শিশু জিহাদকে অপহরণ করা হয়।