যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণের নতুন রূপরেখা দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তরুণ প্রজন্মকে বাড়ি কেনায় উৎসাহিত করতে তিনি ৫০ বছরের মর্টগেজ পরিকল্পনা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেন।
এর পরপরই ফেডারেল হাউজিং পরিচালক বিল পাল্টে এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগে আমরা সত্যিই ‘৫০ ইয়ার মর্টগেজ’ নিয়ে কাজ করছি। এটি সম্পূর্ণ খেলা বদলে দেবে।’’
তিনি আরও লেখেন, ‘‘তরুণদের জন্য আবাসন-স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা একাগ্র। অর্থনৈতিক দিক থেকে তা সম্ভব করতে ৫০ বছরের মর্টগেজ একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। এটি আমাদের বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ—আরও অনেক কিছু আসছে।’’
ফ্যানি মে-এর হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজে মাসিক কিস্তির পরিমাণ কমে আসে। উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়—৩ লাখ ডলারের একটি বাড়ির জন্য ৫ শতাংশ সুদ ও ৫ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ১৫ বছরের কিস্তি হলে মাসে দিতে হয় প্রায় ২ হাজার ২৫৪ ডলার। ৩০ বছরের ক্ষেত্রে তা নেমে আসে ১ হাজার ৫৩০ ডলারে, আর ৫০ বছরের পরিকল্পনায় মাসিক পরিশোধ দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ২৯৪ ডলারে।
তবে বর্তমান মার্কিন আইন অনুযায়ী, এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ নয়। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর প্রণীত ‘ডড-ফ্র্যাঙ্ক ওয়াল স্ট্রিট কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাক্ট’-এর আওতায় ৪০ বছরের বেশি মেয়াদের মর্টগেজ অনুমোদন নেই। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিকল্প কোনো পথ খুঁজে বের করতে হবে।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিদিনের আমেরিকানদের আবাসন ব্যয় কমাতে নতুন উপায় খুঁজছেন। কোনো নীতিগত পরিবর্তন হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’’
তবে ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে দলীয় ভেতরেও ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেলর গ্রিন এক্স-এ লিখেছেন, ‘‘৫০ বছরের মর্টগেজ মানুষকে আরও ঋণের ফাঁদে ফেলবে। ব্যাংক, ঋণদাতা আর নির্মাণ কোম্পানিগুলো লাভবান হবে, কিন্তু মানুষ সারাজীবন সুদ দিতেই থাকবে।’’
রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টমাস ম্যাসিও সমালোচনায় বলেন, ‘‘‘৫০ বছরের মর্টগেজ উপভোগ করুন’ বলা আর ‘আপনি কিছুই মালিক হবেন না, তবুও খুশি থাকবেন’—এই দুই কথার মধ্যে পার্থক্য কোথায়?’’
অন্যদিকে রিয়েল এস্টেট খাতের কিছু বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ওপেনডোর কোম্পানির প্রধান কাজ নেজাটিয়ান এক্স-এ লিখেছেন, ‘‘গত দুই দশকের মধ্যে ৫০ বছরের মর্টগেজই হতে পারে সবচেয়ে গৃহস্বামী-সহায়ক নীতি।’’
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে প্রথমবার বাড়ি কেনা আমেরিকানদের গড় বয়স ছিল ২৮ বছর। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮-এ।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বর্তমানে গড় আমেরিকান পরিবার তাদের আয়ের প্রায় ৩৯ শতাংশ ব্যয় করছে মর্টগেজ পরিশোধে। দেশজুড়ে মধ্যম মূল্যের বাড়ি কিনতে বছরে অন্তত ১ লাখ ১২ হাজার ডলার আয়ের প্রয়োজন, যা সাধারণ পরিবারের গড় আয়ের তুলনায় প্রায় ২৫ হাজার ডলার বেশি।
এ বিষয়ে মার্কিন ফেডারেল হাউজিং সংস্থা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি।
সূত্র: এবিসি নিউজ