এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বার ২০২৫, ০৬:৩৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহারকারীর তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে

হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহারকারীর তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে

হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভয়াবহ দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছেন অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এসবিএ রিসার্চের সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা। তাদের দাবি, একটি প্রযুক্তিগত ফাঁক ব্যবহার করে অ্যাপটির ওয়েব ইন্টারফেসে গোপনে বিপুল পরিমাণ ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর ও প্রোফাইল ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫০ কোটি ব্যবহারকারী ঝুঁকিতে ছিলেন।

গবেষক দলের প্রধান গ্যাব্রিয়েল গেগেনহুবার জানান, একটি উৎস থেকে অস্বাভাবিক সংখ্যক অনুরোধ গ্রহণের ঘটনাই ত্রুটিটি চোখে পড়ে। এর ফলে তারা প্রায় সীমাহীন পরিমাণ অনুরোধ পাঠাতে পেরেছেন এবং দ্রুত লক্ষ্য করেছেন, তথ্য স্ক্র্যাপিং একেবারেই আটকানো যাচ্ছে না। দলের সদস্য আলইওশা ইউডমায়ার বলেন, বার্তার বিষয়বস্তু যদিও এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তিতে সুরক্ষিত থাকে, কিন্তু মেটাডেটা সবসময়ই ঝুঁকিতে। বিশাল পরিমাণ মেটাডেটা বিশ্লেষণ করলে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়ে।

গবেষকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর মেটা সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং এখন সেই ত্রুটি দূর করার দাবি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে কারও নম্বর আছে কি না, তা যাচাইয়ের সীমা নির্দিষ্ট করা হচ্ছে এবং প্রতি অনুসন্ধানে খরচও নির্ধারণ করা হবে, যাতে স্ক্র্যাপিংয়ের সুযোগ কমে যায়।

যদিও মেটা বলছে, ফোন নম্বর ও প্রোফাইল ছবি ব্যবহারকারীদের নিজ নিজ কন্ট্যাক্ট লিস্টেই দৃশ্যমান হয়, ফলে এ তথ্য “ফাঁস” হয়েছে বলা ঠিক নয়—তবুও অনাকাঙ্ক্ষিত কারও হাতে এগুলো পৌঁছে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেই গোপনীয়তার উদ্বেগ তৈরি করে।

হোয়াটসঅ্যাপের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহসভাপতি নীতীন গুপ্ত জানান, বাগ বাউন্টি কর্মসূচির আওতায় গবেষকদের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের কৌশল কিছু সীমা অতিক্রম করে তথ্য স্ক্র্যাপ করতে পেরেছে, যা মেটার অ্যান্টি-স্ক্র্যাপিং ব্যবস্থাকে নতুনভাবে পরীক্ষার সুযোগ দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ত্রুটি কোনোভাবেই ব্যবহারকারীদের বার্তার এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি।

গবেষক দল জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবের মাধ্যমে তারা প্রতি ঘণ্টায় কয়েক কোটি ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে পেরেছেন এবং মোট ব্যবহারকারীর প্রায় ৫৭ শতাংশ অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রোফাইল ছবি পাওয়া গেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়, এমনকি ২৯ শতাংশ ব্যবহারকারীর চ্যাট সম্পর্কিত কিছু তথ্যও দেখা সম্ভব হয়েছে।

এ ঘটনার পরও মেটা জোর দিয়ে বলছে, বড় ধরনের কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি। তবে গবেষকদের অনুসন্ধান স্পষ্টতই দেখিয়ে দিয়েছে, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি।