এখন সময় রিপোর্ট • প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবার ২০২৫, ০৩:০১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

স্পেনকে ছাড়িয়ে ইতিহাসে মরক্কো: টানা ১৬ জয়ে আফ্রিকার নতুন গৌরব

স্পেনকে ছাড়িয়ে ইতিহাসে মরক্কো: টানা ১৬ জয়ে আফ্রিকার নতুন গৌরব

আফ্রিকান ফুটবলের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল মরক্কো জাতীয় দল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলে বিশ্বকে চমকে দেওয়া দলটি এবার লিখল আরও উজ্জ্বল অধ্যায়—টানা ১৬ ম্যাচ জয়ের বিশ্বরেকর্ড।

এই কীর্তির মাধ্যমে মরক্কো ভেঙে দিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের ১৫ ম্যাচের টানা জয়ের রেকর্ড, যা টিকে ছিল ২০০৯ সাল থেকে।

⚽ কঙ্গোর বিপক্ষে ইতিহাস গড়া জয়

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কঙ্গোর বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পায় মরক্কো। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন ইউসেফ এন-নেসিরি।

এই জয়ের ফলে আফ্রিকান অঞ্চলে শতভাগ সাফল্য নিয়ে বাছাইপর্ব শেষ করেছে মরক্কো—৮ ম্যাচে ৮ জয়, সর্বোচ্চ ২৪ পয়েন্ট।

🔥 অবিরাম সাফল্যের ধারা

২০২৪ সালের মার্চে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত মরক্কো অপরাজিত নয়—অপরাজেয়!

এরপর টানা ১৬ ম্যাচে জয়—এর মধ্যে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৭টি, আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে (আফকন) ৬টি, এবং ৩টি প্রীতি ম্যাচে সাফল্য।

গত ১৯ মাসে তারা প্রতিপক্ষের জালে ৫০ গোল দিয়েছে, হজম করেছে মাত্র ৪টি—দারুণ রক্ষণভাগ ও ধারাবাহিক আক্রমণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

🌍 স্পেনের রেকর্ড পেছনে ফেলল মরক্কো

২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের সেই জয়যাত্রা ছিল ২০০৮ সালের জুন থেকে ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত।

২০০৯ কনফেডারেশন্স কাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হেরে থেমে গিয়েছিল তাদের ১৫ ম্যাচের ধারাবাহিকতা।

এবার মরক্কো সেই রেকর্ড ভেঙে *বিশ্ব ফুটবলে টানা সর্বাধিক জয়ী দল* হিসেবে জায়গা করে নিল।

🚀 পরবর্তী লক্ষ্য: জয়রথ আরও এগিয়ে নেওয়া

বাছাইপর্বের লড়াই শেষ হলেও মরক্কো থামছে না। আগামী মাসের ফিফা উইন্ডোতে প্রীতি ম্যাচে নামবে তারা, যেখানে রেকর্ড বাড়ানোর নতুন সুযোগ অপেক্ষা করছে। প্রতিপক্ষ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

উল্লেখ্য, এ রেকর্ডের বাইরেও আগস্টে আফ্রিকান নেশন্স চ্যাম্পিয়নশিপে দেশীয় লিগের খেলোয়াড়দের নিয়ে মরক্কো ‘বি দল’ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল—যা দেশটির ফুটবলে সাফল্যের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে।

মরক্কো এখন শুধু আফ্রিকার নয়, বিশ্ব ফুটবলের নতুন অনুপ্রেরণা।

আশরাফ হাকিমি, ইয়াসিন বুনো, ব্রাহিম দিয়াজদের এই দল দেখিয়ে দিয়েছে—অদম্য ইচ্ছা থাকলে মহাদেশের সীমা পেরিয়ে ইতিহাস গড়া সম্ভব।