খেলাধুলা ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক বাংলাদেশ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে অঞ্চলটির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ফুটবল আসর।

সাউথ এশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (সাফ) নির্বাহী সভায় টুর্নামেন্টের ভেন্যু ও সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ছয় বছর পর আবারও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা।

সর্বশেষ ২০২৩ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্টটি ২০২৪ সালে হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে ২০২৬ সালের আসর আয়োজনের দায়িত্ব পেল বাংলাদেশ।

আগামী ২৫ জুলাই ঢাকায় টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন করা হবে। এরপর ১ আগস্ট ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক ড্র।

বাংলাদেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতীয় দলে প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি সেই আগ্রহকে আরও উসকে দিয়েছে। ফলে দেশের মাটিতে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও ফাহমিদুল ইসলামের মতো ফুটবলারদের খেলার সুযোগ পাওয়া স্থানীয় সমর্থকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল বলেন, ফিফা বিশ্বকাপের পর দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের একটি ঘোষণা। বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে এবং সেই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়েই দেশটিকে আয়োজক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। সফল ও স্মরণীয় একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে বাংলাদেশ বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে ২০০৩ সালে প্রথমবার আয়োজক হয়েছিল বাংলাদেশ এবং সে বছরই শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০০৯ সালে আয়োজক হিসেবে সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৩ সালের আসরেও বাংলাদেশ শেষ চারে জায়গা করে নেয়।

টুর্নামেন্টটির সবচেয়ে সফল দল ভারত, যারা এখন পর্যন্ত নয়বার শিরোপা জিতেছে। মালদ্বীপ দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান একবার করে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নতুন উদ্দীপনার কেন্দ্র হয়ে উঠতে যাচ্ছে ঢাকা। আয়োজক বাংলাদেশের জন্য এটি কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং আঞ্চলিক ফুটবলে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরারও একটি বড় সুযোগ।