বর্তমানে দ্বিতীয় পাসপোর্ট, ভিসা মুক্ত যাতায়াত কিংবা উন্নত জীবনযাত্রার জন্য অনেক মানুষ সহজ উপায়ে অন্য দেশের নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী। বিনিয়োগ, বংশসূত্র কিংবা বসবাসের মেয়াদের ভিত্তিতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করেছে এমন কয়েকটি দেশের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।
১. ডোমিনিকা
বিশ্বের অন্যতম সাশ্রয়ী ও সহজ বিনিয়োগ কর্মসূচির মাধ্যমে ডোমিনিকা নাগরিকত্ব প্রদান করে। দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন তহবিলে নির্দিষ্ট অনুদান অথবা আবাসন খাতে বিনিয়োগ করে মাত্র কয়েক মাসেই নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। ডোমিনিকার পাসপোর্টে ইউরোপের শেনজেন এলাকাসহ ১৪০টির বেশি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করা যায়। এখানে সশরীরে বসবাসের কোনো প্রয়োজন নেই এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ রয়েছে।
২. আয়ারল্যান্ড
বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আয়ারল্যান্ড আদর্শ একটি দেশ। যদি কারো বাবা-মা আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করে থাকেন, তবে তিনি সরাসরি আইরিশ নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য। এমনকি দাদা-দাদীর মাধ্যমেও ফরেন বার্থ রেজিস্টারের অধীনে আবেদন করা যায়। আইরিশ পাসপোর্ট থাকলে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবাধ যাতায়াত ও বসবাসের অধিকার পাওয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ভাষাগত পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না।
৩. তুরস্ক
সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেতে বর্তমানে তুরস্ক অনেকের পছন্দের শীর্ষে। অন্তত চার লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করলে কয়েক মাসের মধ্যেই দেশটির নাগরিক হওয়া যায়। তুরস্কের নাগরিক হওয়ার জন্য দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকার প্রয়োজন নেই এবং নিজের বর্তমান নাগরিকত্ব বর্জন করারও বাধ্যবাধকতা নেই। তুর্কি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা উপভোগ করেন।
৪. পর্তুগাল
ইউরোপীয় ইউনিয়নে নাগরিকত্ব পাওয়ার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসা। পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর পর্তুগিজ ভাষার একটি প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। বিনিয়োগের বিভিন্ন খাত যেমন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড বা রিয়েল এস্টেটের মাধ্যমে পর্তুগাল ইউরোপীয় নাগরিকত্বের নমনীয় পথ অফার করে। পর্তুগিজ নাগরিকরা শেনজেনভুক্ত সব দেশে ভিসা মুক্ত যাতায়াতের সুবিধা পান।
৫. ভানুয়াতু
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ভানুয়াতু তাদের উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির অধীনে অত্যন্ত দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদান করে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে এখান থেকে পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব। ভানুয়াতুর নাগরিকরা ১০০টির বেশি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। এই দেশের বড় একটি সুবিধা হলো এখানে বিদেশি আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হয় না, যা মূলত বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ীদের কাছে দেশটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
৬. ইতালি
ইতালিতে বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে ২০২৫ সালের নতুন আইন অনুযায়ী এটি এখন বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। আবেদনকারীকে তার পূর্বপুরুষের ইতালীয় জন্ম সনদ ও পারিবারিক সম্পর্কের সঠিক নথিপত্র দিয়ে সরাসরি বংশধারা প্রমাণ করতে হয়। ইতালীয় নাগরিকত্ব পেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব অধিকার ভোগ করার পাশাপাশি সন্তানদের জন্যও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায়। এখানে বংশসূত্রে আবেদনের জন্য কোনো ভাষা পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না।
বিশ্বায়নের এই যুগে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকেই একটি বিকল্প নাগরিকত্ব হাতে রাখতে চান। উপরে উল্লিখিত দেশগুলো ভিন্ন ভিন্ন সুযোগ ও সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।