এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৫:৩৫ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

লেবানন-ইসরায়েল উত্তেজনা প্রশমনে মিশরের ব্যাপক তৎপরতা

লেবানন-ইসরায়েল উত্তেজনা প্রশমনে মিশরের ব্যাপক তৎপরতা

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে মিশর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার লেবাননের রাজধানী বৈরুত সফরকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবউলি এই ঘোষণা দেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ মাস ধরে কাজ করে আসা মিশরের এই উচ্চপর্যায়ের সফরটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা মাদবউলি বলেন, লেবাননকে যেকোনো ধরনের সংঘাত ও উত্তেজনা থেকে দূরে রাখতে মিশর তার অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যাবে। তিনি জানান, মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও গোয়েন্দা প্রধানের ধারাবাহিক সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই তিনি এই সফরে এসেছেন।

এদিকে, লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে যুদ্ধবিরতি তদারকির লক্ষ্যে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক কমিটির বৈঠকও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে এবার সামরিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বেসামরিক প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে লিতানি নদীর তীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা সুসংহত করতে লেবাননের শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন এবং বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের বাড়ি ফেরার পরিবেশ তৈরি করা এখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৈঠক শেষে বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকার অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লেবানন সরকার আশা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল হিজবুল্লাহর সশস্ত্র উপস্থিতি মুক্ত করে সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে হিজবুল্লাহর পাশাপাশি ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।

একই দিনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গত বছর লেবানন থেকে আটক হওয়া হিজবুল্লাহর বিশেষ সামুদ্রিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ইমাদ আমহাজ ইরান ও লেবাননে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তবে হিজবুল্লাহ এই দাবি অস্বীকার করে আমহাজকে একজন সাধারণ অপহৃত লেবানিজ নাগরিক হিসেবে অভিহিত করেছে। সব মিলিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো থমথমে থাকলেও মিশরের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যস্থতা নতুন করে শান্তির আশা জাগাচ্ছে।