ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এক নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। তবে এবার তিনি বিবাদী নন, বরং বাদী। ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে তিনি ১০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের একটি বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছেন। এই আইনি লড়াইয়ের আর্থিক দায়ভার শেষ পর্যন্ত মার্কিন সাধারণ করদাতাদের ওপর এসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মামলার প্রেক্ষাপট: আয়কর তথ্য ফাঁস

গত বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার দুই ছেলে এরিক ও ডন জুনিয়র এবং ট্রাম্প অর্গানাইজেশন যৌথভাবে ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (IRS) এবং মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন。 মামলার মূল অভিযোগ হলো, এই দুটি সরকারি সংস্থা ট্রাম্পের গোপনীয় আয়কর তথ্য (Tax Information) সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে。

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে আইআরএস-এর একজন কন্ট্রাক্টর, চার্লস লিটলজন, ট্রাম্পের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং প্রোপাব্লিকার কাছে ফাঁস করে দিয়েছিলেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যে, গত ১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছরই ট্রাম্প কোনো ফেডারেল আয়কর দেননি এবং তিনি তার আয়ের চেয়ে লোকসান বেশি দেখিয়েছেন। এই তথ্য ফাঁসের দায়ে চার্লস বর্তমানে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ: সম্মানহানি ও আর্থিক ক্ষতি

ট্রাম্প পরিবারের দাবি, এই তথ্য ফাঁসের ফলে তাদের ব্যক্তিগত সম্মানহানি হয়েছে, ব্যবসায়িক সুনাম চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তাদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে তাদের 'মিথ্যাভাবে' উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তাদের ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আইনি লড়াই নাকি রাজনৈতিক কৌশল?

রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলার পেছনে বেশ কিছু জটিল সমীকরণ কাজ করছে:

বিশাল অংকের দাবি ও রেকর্ড ভঙ্গ: ট্রাম্প যে পরিমাণ অর্থ দাবি করেছেন, তা তার নিজের মোট সম্পদের চেয়েও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া এর আগে তিনি জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে ২৩০ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি মামলা করেছিলেন। এই মামলাগুলো মূলত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে।

স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest): সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই মামলার নিষ্পত্তি কারা করবেন? ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বা আইআরএস-এর যেসব কর্মকর্তা এই মামলার সেটেলমেন্ট বা আদালতের লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেবেন, তারা অনেকাংশেই ট্রাম্পের প্রতি অনুগত বা তার দ্বারা নিযুক্ত হতে পারেন। ফলে তারা কি আসলেই নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রের অর্থ রক্ষা করবেন, নাকি সমঝোতার নামে ট্রাম্পকে বিপুল অর্থ পাইয়ে দেবেন, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে।

করদাতার দায়: যদি কোনো কারণে আদালত ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয় বা সরকার তার সাথে আপস (Settlement) করে, তবে সেই বিশাল অংকের টাকা সরকারি কোষাগার থেকেই যাবে। অর্থাৎ, প্রকারান্তরে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ট্যাক্সের টাকাই ট্রাম্পের পকেটে যাবে。

ব্যবসায়িক সফলতার সমান্তরাল প্রবাহ: বিশ্লেষক ডেভিড কার্কপ্যাট্রিকের মতে, ট্রাম্প ও তার পরিবার ইতিমধ্যেই ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এমতাবস্থায় এই ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলাটি তাদের আর্থিক সাম্রাজ্যকে আরও শক্তিশালী করার একটি মাধ্যম হতে পারে。

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভেঙে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নিজের ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছিলেন。 এখন সেই গোপন তথ্য ফাঁসের অজুহাতে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশাল অংকের মামলা করাকে অনেকেই ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে দেখছেন। মামলার ভবিষ্যৎ যাই হোক না কেন, এটি যে মার্কিন রাজনীতি এবং বিচার বিভাগে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।