রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের হুমকির পর ভারত এবার আমেরিকা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
২০২২ সালের পর এটাই দ্বিতীয়বার, যখন ভারতের মার্কিন তেল আমদানি এতটা বেড়েছে। এনার্জি কনসালটিং প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভারত প্রতিদিন গড়ে ৫ দশমিক ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মাস শেষে এই পরিমাণ ৫ দশমিক ৭৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নভেম্বরের জন্য আমদানির বুকিং প্রতিদিন ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ লাখ ব্যারেলের মধ্যে থাকবে বলে অনুমান।
কেপলারের প্রধান বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া বলেন, অর্থনৈতিক কারণেই ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই তেলের দামের ব্যবধান বাড়ায়, তুলনামূলকভাবে সস্তা মার্কিন তেল কেনার সুযোগ নিচ্ছে ভারত। এছাড়া চীনের চাহিদা কমে যাওয়ায় মার্কিন তেলের প্রাপ্যতাও বেড়েছে, যা ভারতীয় শোধনাগারগুলোর জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ালেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেনি ভারত। এখনও ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে রাশিয়া থেকে, যা দেশের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। ইরাক দ্বিতীয় এবং সৌদি আরব তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ভারতীয় সরকারি ও শিল্পসূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির তেল শোধনাগারগুলো ইউএস মিডল্যান্ড ডব্লিউটিআই ও মার্স গ্রেড অপরিশোধিত তেলের ক্রয় বাড়িয়েছে। এর উদ্দেশ্য সরবরাহের উৎসকে বহুমুখী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে সহযোগিতার বার্তা দেওয়া।
রাশিয়ার তেল কোম্পানি রোসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের এই কৌশলগত পরিবর্তন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতীয় শোধনাগারগুলো এখনো রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস