অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও গাজার বিভিন্ন অংশে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। রোববার খান ইউনিসে পৃথক হামলায় এক কিশোর ও এক জেলেসহ অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
গাজার মধ্যাঞ্চলে বুরেজ শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। উত্তরের গাজা সিটিতে তুফাহ পাড়ার অবশিষ্ট ঘরবাড়ি ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর গাজায় অবকাঠামো ধ্বংসের কথা স্বীকার করলেও তাদের দাবি, তারা মাটির নিচে ও ওপরে থাকা সুড়ঙ্গ এবং সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালাচ্ছে।
এছাড়া গাজা সিটির সুজাইয়া ও জাইতুন পাড়ায় ব্যাপক কামান হামলা চালানো হয়েছে এবং ড্রোন থেকে ঘরবাড়ির ওপর বিস্ফোরক ফেলা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭১,৩৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭১,২৬৪ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হওয়ার পর গত তিন মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪২০ জন।
মানবিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সীমান্তে ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তারা দাবি করছে যে ত্রাণের কোনো সংকট নেই, যদিও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সংস্থাগুলোর ভাষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর মধ্যেই ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে গাজায় কাজ করা নিষিদ্ধ করেছে ইসরায়েল।