যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন নিয়মে গ্রিনকার্ডধারী এবং পর্যটকদের জন্য জারি করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। বিশেষ করে ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে আমেরিকার প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থান পথে অর্থাৎ বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং স্থলবন্দরে অ-মার্কিন নাগরিকদের বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন সীমান্ত কর্মকর্তাদের কাছে ছবি তোলার পাশাপাশি আঙুলের ছাপ এবং চোখের মণি বা আইরিশ স্ক্যান দিতে হতে পারে। আগে শিশু এবং বৃদ্ধদের এই প্রক্রিয়া থেকে ছাড় দেওয়া হলেও এখন ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৭৯ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে গ্রিনকার্ডধারীদের ওপর। আফগানিস্তান, হাইতি, সুদান, ইয়েমেন এবং ভেনিজুয়েলাসহ মোট ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য বিশেষ স্ক্রিনিং বা কঠোর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে পূর্বের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ থাকায় তাদের গ্রিনকার্ড পুনরায় পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএসসিআইএস। এর ফলে যারা বর্তমানে গ্রিনকার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন বা যারা নতুন আবেদনের অপেক্ষায় আছেন, উভয় পক্ষই দীর্ঘসূত্রিতা ও বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে পারেন।
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) তাদের নথিতে উল্লেখ করেছে যে, ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে প্রবেশ বন্ধ করা এবং ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেই এই ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই বায়োমেট্রিক পদ্ধতি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে পুরো দেশজুড়ে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বিশেষ করে ওই তালিকাভুক্ত ১৯টি দেশের নাগরিকদের এখন থেকে ভ্রমণের সময় সব নথিপত্র নির্ভুলভাবে সাথে রাখতে হবে। এছাড়া অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা এড়াতে আইনি পরামর্শ নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপকে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে দেখা হলেও, অনেক অভিবাসীর জন্য এটি দৈনন্দিন যাতায়াতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।