ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৫:৪১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে খেলাপি ছাত্রঋণ আদায়ে বেতন কাটার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে খেলাপি ছাত্রঋণ আদায়ে বেতন কাটার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে খেলাপি ছাত্রঋণ গ্রহীতাদের বেতন থেকে সরাসরি অর্থ কেটে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার শিক্ষা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে প্রায় এক হাজার ঋণগ্রহীতাকে এই বিষয়ে নোটিশ পাঠানো হবে। পরবর্তী মাসগুলোতে পর্যায়ক্রমে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

দেশটিতে বর্তমানে কয়েক মিলিয়ন শিক্ষার্থী ঋণের দায়ে খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যারা অন্তত ২৭০ দিন তাদের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী বেতন থেকে অর্থ কর্তন শুরু করার ৩০ দিন আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ প্রদান করা হবে। শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ঋণগ্রহীতাদের যথেষ্ট সময় এবং অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরেই কেবল এই সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এর আগে মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন মহামারীকালীন ছাত্রঋণ পরিশোধের স্থগিতাদেশ বাতিল করে। এরপর থেকে ট্যাক্স রিফান্ড এবং অন্যান্য ফেডারেল পেমেন্ট আটকে দেওয়ার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্চ থেকে বন্ধ থাকা ফেডারেল ছাত্রঋণ সংগ্রহের কার্যক্রম দীর্ঘ সময় পর পুনরায় শুরু হওয়ায় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিদায়ী বাইডেন প্রশাসন একাধিকবার ছাত্রঋণ মওকুপের চেষ্টা করলেও আদালতের হস্তক্ষেপে তা সফল হয়নি।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে স্টুডেন্ট বরোয়ার প্রোটেকশন সেন্টার। সংস্থাটির উপ-নির্বাহী পরিচালক পারসিস ইউ এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে নিষ্ঠুর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যেখানে সাধারণ পরিবারগুলো অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে জীবন যাপন করছে, সেখানে সাশ্রয়ী পেমেন্ট অপশন দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

শিক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আরও চাপের মুখে পড়বে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের বকেয়া অর্থ উদ্ধার এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।