এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বার ২০২৫, ০১:৫৭ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-ওয়ানবি ভিসায় বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব: সংকটে বিদেশি কর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-ওয়ানবি ভিসায় বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব: সংকটে বিদেশি কর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-ওয়ানবি এবং পিইআরএম কর্মসূচির আওতায় কর্মরত বিদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বেতনের সুরক্ষা আরও জোরদার করতে একটি নতুন নীতিমালার প্রস্তাব করেছে মার্কিন শ্রম বিভাগ। ইমপ্রুভিং ওয়েজ প্রটেকশনস ফর এইচ-ওয়ানবি অ্যান্ড পিইআরএম এমপ্লয়মেন্ট শীর্ষক এই প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ ব্যয় বাড়িয়ে স্থানীয় আমেরিকান কর্মীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

প্রস্তাবিত এই নীতিমালার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের মেয়াদের একটি অনুরূপ উদ্যোগের আদলে তৈরি। ২০২১ সালে তৎকালীন প্রশাসন প্রচলিত মজুরি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল, যা পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় ভেস্তে যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের এক ঘোষণার মাধ্যমে শ্রম বিভাগকে এই মজুরি বিধিমালা পুনরায় লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে এইচ-ওয়ানবি ভিসাধারীদের মজুরি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যে পদের বেতন বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার, নতুন নিয়মে তা ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এর ফলে নতুন নিয়োগের পাশাপাশি বর্তমান কর্মীদের ভিসা নবায়ন বা চাকরি বদলের ক্ষেত্রেও কোম্পানিগুলো বিশাল আর্থিক চাপে পড়বে।

অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ কমাতে তাদের কার্যক্রম বা কর্মসংস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য দেশে সরিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, মজুরি কাঠামোর চারটি ধাপ পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করতে চায় যে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ যেন কোনোভাবেই আমেরিকানদের কাজের সুযোগ কমিয়ে না দেয়। তবে এই নীতিমালার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারী ও চাকরিদাতাদের মধ্যে এখন গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।