এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধে ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধে ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধের ওপর সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না। ধাপে ধাপে শুল্ক বৃদ্ধি করে ২০২৮ সালের ১ আগস্ট থেকে এটি স্থায়ীভাবে কার্যকর করা হবে।

বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জেনেরিক ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে প্রথম এক বছর কোনো শুল্ক আরোপ করা হবে না। এরপর এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে এবং ২০২৮ সালের আগস্ট থেকে শুল্কের হার স্থায়ীভাবে ২০০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

ট্রাম্পের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী:

১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত শুল্ক হবে শূন্য শতাংশ।

পরবর্তী এক বছরের জন্য শুল্কের হার হবে ১০০ শতাংশ।

১ আগস্ট ২০২৮ থেকে আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক স্থায়ীভাবে কার্যকর হবে।

এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যেসব ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা ও প্রয়োজনীয় উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তুলবে না, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে পেটেন্টকৃত বা ব্র্যান্ডেড ওষুধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, উদ্ভাবনী ও ব্র্যান্ডেড ওষুধসংক্রান্ত নীতিমালা অপরিবর্তিত থাকবে।

জেনেরিক ওষুধ হলো কোনো ব্র্যান্ডেড ওষুধের সমমানের বিকল্প, যাতে একই সক্রিয় উপাদান (এপিআই) থাকে এবং একই ধরনের কার্যকারিতা পাওয়া যায়। কোনো ওষুধের পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে জেনেরিক সংস্করণ উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারে।

বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম। 'বিশ্বের ফার্মেসি' হিসেবে পরিচিত দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জেনেরিক ওষুধের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বর্তমানে মার্কিন বাজারে ব্যবহৃত মোট জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়।

ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ২ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারের জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৯৭০ কোটি ডলারের ওষুধ। অর্থাৎ ভারতের মোট জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ এসেছে মার্কিন বাজার থেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষিত নীতি কার্যকর হতে এখনো সময় থাকলেও এটি বৈশ্বিক জেনেরিক ওষুধ বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারতসহ যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোকে উৎপাদন ও বাজার কৌশলে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।