এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবার ২০২৫, ১১:২৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন ক্যারিবীয় অঞ্চলে

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন ক্যারিবীয় অঞ্চলে

ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বিমানবাহী রণতরি এবং এর সহায়ক নৌবহরকে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে মোতায়েনের নির্দেশ দেন।

এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে অতিরিক্ত আটটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক সাবমেরিন এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে। এ মোতায়েনকে ঘিরে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ তারা মনে করছে এটি কেবল মাদকবিরোধী অভিযান নয়, বরং অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের কৌশল।

সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী জাহাজে অন্তত ১০টি বিমান ও নৌ-আক্রমণ চালিয়েছে, যেখানে প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন ভেনিজুয়েলার নাগরিকও রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান শুধুমাত্র মাদকবিরোধী তৎপরতা নয়; বরং এটি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে লাতিন আমেরিকায় এক বৃহৎ সামরিক প্রদর্শন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেন, ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক উপস্থিতি অবৈধ কর্মকাণ্ড শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের নিরাপত্তা এবং পশ্চিম গোলার্ধের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তবে তিনি রণতরিটি কখন ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে, তা স্পষ্ট করে জানাননি। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড সম্প্রতি ইউরোপের জিব্রালটার প্রণালি অতিক্রম করেছে।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চায়। গত আগস্টে ওয়াশিংটন মাদুরোর গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, মাদুরো মাদক ও অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত, তবে মাদুরো তা অস্বীকার করেছেন।

২০১৭ সালে কমিশনপ্রাপ্ত ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি। এতে পাঁচ হাজারের বেশি নাবিক রয়েছে এবং এটি ৭৫টিরও বেশি যুদ্ধবিমান বহন করতে সক্ষম। জাহাজটিতে এফ-১৮ সুপার হর্নেট ও ই-২ হকআই সতর্কতাবাহী বিমানসহ অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।

এতে ব্যবহৃত নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর এবং ইভলভড সি স্প্যারো মিসাইল সিস্টেম শত্রু ড্রোন ও বিমান প্রতিহত করতে সক্ষম। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই রণতরিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সূত্র: রয়টার্স