এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবার ২০২৫, ১১:০২ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

মেয়র নির্বাচিত হলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের অঙ্গীকারে অনড় মামদানী

মেয়র নির্বাচিত হলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের অঙ্গীকারে অনড় মামদানী

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানী ঘোষণা দিয়েছেন—তিনি নির্বাচিত হলে এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু শহরে সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করবেন।

মঙ্গলবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মামদানী বলেন, “নিউইয়র্ক সিটির উচিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।”

তবে তার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) স্বীকৃতি না দিলেও ২০২৪ সালে সেই আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রধান মুরাদ আওয়াওদেহ বলেন, “নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা আমাদের অগ্রাধিকার নয়।”

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জেরি ন্যাডলারও মন্তব্য করেন, “নিউইয়র্ক সিটির কোনো এখতিয়ার নেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার। মামদানীর প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়।”

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাংবাদিক মেহদি হাসানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মামদানী প্রথম এই বক্তব্য দেন। তখন হাসান প্রশ্ন করেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়, তাই নেতানিয়াহু চাইলে নিউইয়র্কে আসতে পারেন। আপনি মেয়র হলে কী করবেন?”

উত্তরে মামদানী বলেন, “আমি মেয়র হলে নিউইয়র্ক সিটি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করবে। আমাদের শহরের মূল্যবোধ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।”

এই মন্তব্যের পর থেকেই মামদানীকে ঘিরে তীব্র আলোচনা শুরু হয় মার্কিন রাজনীতিতে। কেউ তার অবস্থানকে ‘নৈতিক সাহসের প্রকাশ’ বলছেন, আবার কেউ একে ‘রাজনৈতিক কল্পনা’ বলে সমালোচনা করেছেন।

প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতিনিধি মামদানী নিউইয়র্ক রাজ্যের অ্যাসেম্বলির সদস্য। অভিবাসী অধিকার, আবাসন সংকট ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকারে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—“ট্রাম্প-প্রুফ নিউইয়র্ক” গড়ে তুলবেন, যেখানে অভিবাসীদের আইনি সহায়তা ও নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

সম্প্রতি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির পর এক বিবৃতিতে মামদানী বলেন, “আজকের দৃশ্যগুলো গভীরভাবে নাড়া দেয়—ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি, পরিবারগুলোর পুনর্মিলন এবং গাজায় বোমাবর্ষণহীন আকাশ—সবই আশার প্রতীক। তবে আমাদের করের অর্থ দিয়ে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ মানবতার ওপর এক স্থায়ী দাগ হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও লেখেন, “এখন সময় এসেছে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা ও আমাদের নৈতিক চেতনার পুনর্মূল্যায়নের।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মামদানীর বক্তব্য বাস্তবে কার্যকর করার সুযোগ না থাকলেও এটি প্রগতিশীল ভোটারদের কাছে এক প্রতীকী বার্তা।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্গারেট লি বলেন, “মামদানী স্থানীয় রাজনীতিতে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সামনে এনেছেন, যা মার্কিন শহর রাজনীতিতে বিরল।”

আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে মামদানী অন্যতম আলোচিত প্রার্থী। তাঁর বিতর্কিত অবস্থান যেমন তরুণ ভোটারদের অনুপ্রাণিত করছে, তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতেও রেখেছে।

তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস